kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

বেলাবতে নববধূর অপমৃত্যু

এক সপ্তাহ পরও ছয় আসামির সবাই অধরা

নরসিংদী ও মনোহরদী প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নরসিংদীর বেলাবতে নববধূ মোছা. আকলিমা আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ছয় আসামির কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর বাবা মুরশিদ মিয়া বাদী হয়ে বেলাব থানায় মামলাটি করেন। এতে আকলিমার স্বামী আকরাম হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগে মনোহরদীর দাইরাদী গ্রামের আকলিমার সঙ্গে বেলাবর হারিসাংগান গ্রামের বদরুলের ছেলে আকরামের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর আকলিমা জানতে পারেন তাঁর স্বামীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক আছে। এতে বাধা দিলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে চলে যান আকলিমা। আর নির্যাতন করবেন না মর্মে কয়েক দিন পর স্ত্রীকে বুঝিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন আকরাম। কিন্তু গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে অপবাদ দিয়ে আবারও নির্যাতন শুরু

করেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে আকলিমাকে মারধর ও গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। বিষয়টি মোবাইল ফোনে মা-বাবাকে জানান তিনি। বিকেলে তাঁকে আবারও মারধর করেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন। এই অবস্থায় দেবর শাকিল সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে বাবার বাড়ির পাশে ফেলে পালিয়ে যান। পরে আকলিমার বাড়ির লোকজন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়।

বাদী মুরশিদ বলেন, ‘আকরামের পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ার জন্যই আমার মেয়েকে মরতে হয়েছে। আমরা পারিবারিকভাবে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আকরামকে পরকীয়া প্রেম থেকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। অবশেষে আমার মেয়েকে জীবন দিতে হলো। আমি এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।’

বেলাব থানার ওসি সাফায়েত হোসেন পলাশ বলেন, আসামিরা পলাতক। তবে তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা