kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

কিশোরগঞ্জ

যানজট নিরসনে চাঁদাবাজি কমিটি!

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যানজট নিরসনে চাঁদাবাজি কমিটি!

যানবাহন থেকে শ্রমিক ও মালিকদের নানা সংগঠনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ পুরনো। এই চাঁদাবাজি নতুন নামে বৈধতা দিতে চাচ্ছে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসন। লক্ষ্য শহরে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসন করা। তবে পুলিশ বলছে, শহরের যান চলাচল দেখাশোনার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। এটি অন্য কারো কাজ না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শহরের যানজট কমানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি গত ৫ জুলাই জুমে বৈঠক করে। এতে ৩৭টি বিষয় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত ছিল না।

অভিযোগ উঠেছে, ‘যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মিশুক ও রিকশা ইত্যাদি যানবাহন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি’ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারা এখন স্ট্যান্ডে স্ট্যান্ডে কমিটি গঠন করছে। প্রতি স্ট্যান্ডে ১০-১২ জন করে কর্মী নিয়োগ (যাদের দৈনিক বেতন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা) করেছে। আর এসব কর্মীর বেতন পরিশোধের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যানবাহনগুলোর ওপর। মাসে প্রত্যেকটি ইজি বাইকের ওপর ৬০০ টাকা করে চাঁদা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইজি বাইক শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কিশোরগঞ্জ পৌর ইজি বাইক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সৈয়দ বলেন, ‘আগে আমরা বিভিন্ন সংগঠনের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ছিলাম। এখন স্ট্যান্ডগুলোতে প্রশাসনের নিয়োগ দেওয়া কর্মীরা চাঁদাবাজি করছে, যা কোনোভাবে

কাম্য না।’

তিনি জানান, তাদের হিসাব মতে শহর ও বাইরের অন্তত ১০-১২ হাজার ইজি বাইক চলাচল করে (যদিও প্রশাসনের হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার)। যা থেকে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হওয়ার কথা। এসব টাকা কিভাবে খরচ হবে। এগুলো কেউ জানে না।

যানজট নিরসনে ব্যটারিচালিত অটোরিকশা, মিশুক, রিকশা ইত্যাদি যানবাহন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, শহরের যানজট নিরসনে ১১টি ইজিবাইক স্ট্যান্ড ও আটটি সিএনজি স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে চালাতে প্রতিটি স্ট্যান্ডে ব্যবস্থাপনা কমিটি করা হয়েছে। আর প্রতি স্ট্যান্ডে ১০ জন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এটি দেশে যানজট নিরসনে একটি মডেল ব্যবস্থাপনা হবে।’

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, যেকোনো ধরনের চাঁদা আদায় অবৈধ। আর যানবাহন চলাচল, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশের কাজ পুলিশ করবে। অন্যরা পুলিশকে সহযোগিতা করতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা