kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

মহিষ ছেড়ে ১৫০ একর চর দখল

রায়পুরে আ. লীগ নেতার দাপট

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহিষ ছেড়ে ১৫০ একর চর দখল

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মহিষ ছেড়ে দিয়ে কৃষকদের ১৫০ একর চরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকাচিয়া গ্রামের নতুন চরে এ ঘটনা ঘটে। দখলকারী মফিজ খান উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান চরটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মালিকপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মহিষ সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। শান্তি-শৃৃৃৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বলেন।

চরের বাসিন্দারা জানায়, মেঘনার বুকে জেগে ওঠা নতুন চরের ১৫০ একর জমিতে শতাধিক কৃষক গত ১১ বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। এর মধ্যে ২০০৩-০৪ সালে ৬৬ জন কৃষককে ৬৬ একর জমি সরকার বন্দোবস্ত দেয়। এই চরে মৌসুমে ধান ও সয়াবিন চাষ হয়। উত্পাদনও ভালো। সম্প্রতি চরটি বরিশাল জেলার দাবি করে খাসেরহাটের মফিজ খান, হায়দরগঞ্জের টিটু হাওলাদার ও তাঁদের অনুসারীরা দখলের পাঁয়তারা চালায়। ১৫ দিন আগে কৃষকদের জমি দখলে নিতে তারা চরে তিন শতাধিক মহিষ ছেড়ে দেয়। মহিষের অবাধ বিচরণে জমিতে রোপণ করা আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্তরা আরো জানান, কৃষকদের অভিযোগ ও দখলের বিষয়টি তদন্তের জন্য রায়পুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া সরেজমিনে যান। এ সময় তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দখলদারদের মহিষগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ মানা হয়নি। উল্টো গত ৫ আগস্ট থেকে মফিজ ও টিটু হাওলাদারসহ তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরে মহড়া দিচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের ও পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিচ্ছে। এতে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে চরের বাসিন্দারা। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে মোতালেব হোসেন বাদী হয়ে দখলকারী মফিজ খান, টিটু হাওলাদারসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘কৃষকদের জমি দখলে নিতে মফিজ সম্প্রতি তিন শতাধিক মহিষ চরে ছেড়ে দিয়েছে। এতে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। মফিজ ও তার লোকজন চর এলাকায় প্রতিনিয়ত অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। মফিজরা বহিরাগত, অন্য এলাকা থেকে এসে চর দখল করায় আওয়ামী লীগের বদনাম হচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে একাধিকবার কল দিয়ে মফিজ খানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মহিষগুলো চরে ছেড়ে দেওয়ায় কৃষকদের ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। মহিষগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য মালিকদের বলা হয়েছে। চরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দুই পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা