kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

১৩ জঙ্গিকে খুঁজছে পুলিশ

জঙ্গি-পুলিশ সংঘর্ষের ১৯ বছর পূর্ণ আজ

আলমগীর চৌধূরী, জয়পুরহাট   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ২০০৩ সালের ১৪ আগস্ট জঙ্গি-পুলিশ সংঘর্ষের ১৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। এত দিনেও বিচারকাজ শুরু হয়নি। কারণ মামলার ৫৯ আসামির মধ্যে শীর্ষ ১৩ জঙ্গি পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও পুলিশ এক যুগেও তাঁদের ধরতে পারেনি।

জামিন নিয়ে পলাতক জঙ্গিরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের আনোয়ার হোসেন ওরফে খোকা, তারিকুল ইসলাম ওরফে তারেক ওরফে শহীদ ওরফে ভাগ্নে শহীদ, রংপুরের জয়নাল আবেদীন, গাইবান্ধার মামুনুর রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছরোয়ার জাহান, শহিদুল ইসলাম ওরফে রানা ও তুফান ওরফে আবুল কাশেম, রাজশাহীর শহীদুল্লাহ ফারুক ওরফে সেলিম ও আদনান ছামি ওরফে আম্বর ওরফে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে মোখলেছার, নওগাঁর সাইফুল ইসলাম ওরফে খোকন ও আব্দুল কুদ্দুস; বগুড়ার আরিফুর রহমান ওরফে আসাদুল্লাহ এবং নারায়ণগঞ্জের সালাউদ্দিন ওরফে ছালেহীন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ক্ষেতলালের আঞ্চলিক জেএমবি (জঙ্গি) নেতা মন্তেজার রহমানের বাড়িতে গোপন বৈঠকে বসে। সেখানে উপস্থিত হন দেশের শীর্ষ জঙ্গি নেতারা। খবর পেয়ে জয়পুরহাট সদর ও ক্ষেতলাল থানা পুলিশ মহেশপুর গ্রামে (১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি) মন্তেজারের বাড়ি ঘেরাও করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে তারা পালানোর চেষ্টা করলে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে জয়পুরহাট সদর থানার তৎকালীন ওসি ইকবাল শফিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। জঙ্গিরা পুলিশের তিনটি শর্ট গান, একটি ম্যাগাজিন ও ওয়াকিটকি লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৫ আগস্ট ক্ষেতলাল থানায় ৩৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার রাতেই পুলিশ ২০ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিন পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে পুলিশ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করলেও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থ হয়।

দিনাজপুর জোনের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জালাল উদ্দীন তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ৬১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অন্যদিকে ঘটনাস্থল থেকে  অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় ওই ৬১ জনের বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা হয়। দিনাজপুর জোনের সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আহসান উল কবীর মামলা দুটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ২৫ মে ওই ৬১ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৫ আগস্ট মামলা দায়ের হওয়ার পর বিভিন্ন সময় উচ্চ আদালত থেকে ১৩ জন আসামি জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, ওই সব পলাতক জঙ্গির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হেনা কবীর জানান, মামলা তিনটি জয়পুরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন আসামি জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, মামলার ১৩ শীর্ষ আসামি আদালত থেকে প্রায় এক যুগ আগে জামিন নিয়ে পলাতক আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও এই মামলায় বিচারের সম্মুখীন হননি। এ ছাড়া কারাগারে আটক অন্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন জেলায় মামলা থাকায় তাঁদের অনেককে জয়পুরহাট আদালতে সময়মতো হাজির করা যাচ্ছে না। আইনের বিধান হলো একজন আসামির অনুপস্থিতিতেও মামলার চার্জ গঠন করা যাবে না। ফলে আসামিদের হাজিরা নিশ্চিত করতে না পারার আইনগত জটিলতার কারণেই ঘটনার ১৭ বছরেও চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ শুরু করা যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা