kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

মাতৃসদন থেকে বিতাড়িত পথেই সন্তান প্রসব

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাতৃসদন থেকে বিতাড়িত পথেই সন্তান প্রসব

অমানবিক : মাতৃসদন থেকে বিতাড়িত হয়ে গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে একটি পরিত্যক্ত ঘরে সন্তান প্রসব করেন জেমি আক্তার। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃসদন) থেকে বিতাড়িত প্রসূতি জেমি আক্তার (২৫) রাস্তার পাশে এক পরিত্যক্ত ঘরে সন্তান প্রসব করেছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে অমানবিকভাবে তাঁকে বের করে দেওয়ার পর জেলা শহরের ডিবি রোডে সন্তান প্রসব করেন তিনি।

স্বজনরা জানান, জেমি সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া গ্রামের হিরু মিয়ার স্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে তীব্র ব্যথা উঠলে প্রসূতিকে নিয়ে স্বজনরা বোনারপাড়া থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে মাতৃসদনে যান। কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সেলিনা বেগম কোনো পরীক্ষা ছাড়াই অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে অন্যত্র যেতে বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কর্ণপাত না করে উল্টো গালাগাল করে বের করে দেওয়া হয় তাদের। ওই প্রসূতি গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের পরিত্যক্ত ঘরে কন্যাসন্তান প্রসব করেন।

জেমি আক্তার জানান, মা হতে এসে তাঁকে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। ধুলার মধ্যে তিনি সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য হন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সেলিনা বেগম জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় ভয়ে প্রসূতিকে ভর্তি করা হয়নি। তাঁকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়।

মাতৃসদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আফসারী খানম বলেন, ‘যদি কর্তব্য অবহেলার কোনো বিষয় থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে তাঁরা গভীর রাতে প্রসূতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি মাহফুজা খানম মিতা ও সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ জানান, প্রসূতির স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের একমাত্র ভরসাস্থল মাতৃসদন। কিন্তু এখানে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা