kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

বগুড়া শহর

ভয়কে জয় করে যানজটে

লিমন বাসার, বগুড়া   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভয়কে জয় করে যানজটে

বগুড়া সদর থানার সামনে গতকাল ১২টা ৫৩ মিনিটের দুঃসহ যানজট। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বগুড়া শহরের রাস্তাঘাটে ধারণক্ষমতার ১০ গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে। যত্রতত্র রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও কুরিয়ার সার্ভিসের ট্রাকগুলো শহরের মূল সড়কগুলোতে অবাধে যাতায়াত করায় যানজট অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে শহরের ভেতর দিয়ে রেলপথ যাওয়ায় ও দিনে ১৬টি ট্রেন যাতায়াত করায় অনেকটা সময় সিগন্যালে কেটে যাচ্ছে যাত্রীদের।

সকাল থেকে শহরের সাতমাথা হয়ে দত্তবাড়ি-কালীতলা রাস্তায় রিকশার প্রচণ্ড চাপ থাকে। সেই চাপের সঙ্গে যোগ হয় কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো। দিনের বেলা ট্রাকে পণ্য লোড-আনলোড আর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এখন যানজটের অন্যতম কারণ। যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বগুড়াবাসীকে। শহরে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ বিভিন্ন সময় নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিলেও শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এদিকে রাত ৮টার আগে শহরে ট্রাকসহ কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও বগুড়া শহরের ভেতর দিয়ে ঢাকা-বগুড়া-রংপুরের দূরপাল্লার কিছু কোচ অনায়াসেই দিনের বেলাতেও যাতায়াত করে।

এসবের প্রভাবে শহরের নামাজগড়, বড়গোলা টিনপট্টি, দত্তবাড়ী, স্টেশন রোড, চেলোপাড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সারা দিন ট্রাক চলাচল করে। সাতমাথার নিকটবর্তী রেলগেট, কাঁঠালতলা, ফতেহ আলী মোড়, সাঁতানী মোড়, জলেশ্বরীতলা কালীবাড়ী মোড়, গোহাইল রোড, পার্ক রোড, খান্দার মোড়সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে।

এ ছাড়া সড়কে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণেও যানজট বাড়ছে। ব্যস্ততম কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, থানা মোড়, সাতমাথা, জলেশ্বরীতলা, শহীদ আবদুল জব্বার সড়ক, জজ কোর্ট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সদর থানার সামনেই কবি নজরুল ইসলাম সড়কের দুই পাশে দিনভর অসংখ্য গাড়ি অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখলেও পুলিশ নীরবতা পালন করে।

বগুড়া শহরে যানজটের অন্যতম কারণ অবৈধ রিকশা, সিএনজিচালিত অটোটেম্পো ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। অথচ এই শহরে পাঁচ হাজার রিকশা চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বগুড়া পৌরসভা। বাকি ৪৫ হাজার যানবাহনের কোনো বৈধতা নেই।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের ব্যস্ততম এলাকা শেরপুর রোডে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে তীব্র যানজট। একটু সামনে গিয়ে দেখা গেল, বড় বড় তিনটি কাভার্ড ভ্যান থেকে মালপত্র নামাচ্ছে করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস, এসআর পার্সেল সার্ভিস ও এসএ পরিবহনের লোকজন। পেছনে আটকে আছে শত শত রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোটেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহন। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় গিয়েও তীব্র যানজট লক্ষ করা যায়। ওই এলাকায় একটি ট্রাক ঢুকে পড়ার কারণে যানজট স্থায়ী হয়। দেড় ঘণ্টাতেও এই যানজট হালকা হয়নি। অনুসন্ধানকালে বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের দুই-তিন কনস্টেবল ছাড়া টিআই পদ মর্যাদার কোনো কর্মকর্তা কিংবা সার্জেন্টকেও ডিউটি করতে সড়কে দেখা যায়নি।

বগুড়া পৌরসভার তথ্য মতে, তাদের কাছে নিবন্ধিত সাড়ে পাঁচ হাজার রিকশার বাইরে চলাচল করে আরো ৪০ হাজার অবৈধ রিকশা। তা ছাড়া বগুড়া বিআরটিএর কাছে নিবন্ধন রয়েছে পাঁচ হাজার সিএনজি অটোটেম্পো। কিন্তু সড়কে চলছে ৩০ হাজারেরও বেশি সিএনজি অটোটেম্পো।

সড়কে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের টিআই (অ্যাডমিন) রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ঈদ পরবর্তী ছুটির কারণে কর্মকর্তাদের সংখ্যা কিছুটা কম আছে। তবে যাঁরা আছেন তাঁদের সবাই দায়িত্ব পালন করছেন।

যানজটের ব্যাপারে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঁঞা জানান, অবৈধ যানবাহন ধরতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। দিনের বেলা যাতে শহরে কোনো ট্রাক প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা