kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

ঠাকুরগাঁও

সম্পত্তি চাওয়ায় বিধবাকে মারধর

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শ্বশুরবাড়ির কাছে সম্পত্তি দাবি করেন কুলসুম আক্তার। এই ‘অপরাধে’ তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তাই বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে সালিস বৈঠকে বসেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। কিন্তু সেখানে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে কুলসুমসহ উভয় পক্ষের চারজন আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদরের বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে।

আহত অন্যরা হলেন একই ইউপির চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার সিংহ, গ্রাম পুলিশ আতাউর রহমান ও ফিরোজ।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে।

অন্যদিকে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভিড় করে উত্তেজিত এলাকাবাসী। এই সময় তারা কুলসুমের শ্বশুরবাড়ির ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা মারধরের উদ্দেশ্যে পুলিশের হাত থেকে আটককৃতদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শ্বশুরবাড়ির কাছে এক বিঘা জমি দাবি করেন কুলসুম। এর পর থেকে তাঁর ওপর বিভিন্ন নির্যাতন শুরু হয়।

এই অবস্থায় কুলসুমের বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি একাধিকবার সমঝোতা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তাঁর শ্বশুর বিষয়টি সমাধানের জন্য বড়গাঁও ইউপির চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার উভয় পক্ষকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সালিস বৈঠকের আয়োজন করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এ সময় একমাত্র মেয়ের জন্য স্বামীর কেনা পাঁচটি গরু ও এক বিঘা জমি দাবি করেন কুলসুম। নিজের বিয়ের সময় দেওয়া যৌতুকের টাকায় জমিটি, আর গরুগুলো কেনা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। কিন্তু তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তা দিতে রাজি না হয়ে উল্টো বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষ হয়। এতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার ও কুলসুমসহ উভয় পক্ষের চারজন আহত হন।

কুলসুমের অভিযোগ, ‘অভিযুক্তরা চেয়ারম্যান এবং আমাকে মারধর করেন।’

বড়গাঁও ইউপির চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার বলেন, ‘এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আমিও আহত হই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা