kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

বেহাল রাস্তায় ভাঙছে বিয়ে

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বেহাল রাস্তায় ভাঙছে বিয়ে

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোঁতা ইউনিয়নের নবীনগরে তিন কিলোমিটার বেহাল রাস্তার কারণে জনদুর্ভোগের শেষ নেই। ছবি : কালের কণ্ঠ

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের নবীনগরে তিন কিলোমিটার বেহাল রাস্তার কারণে জনদুর্ভোগের শেষ নেই। কাঁচা রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচল অযোগ্য হওয়ায় অন্য এলাকার আত্মীয়-স্বজন এই গ্রামে আসে না। রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয় না। বাড়িতে ঠিকমতো পৌঁছানো যায় না মাঠের উৎপাদিত ফসল। শুধু তাই নয়, বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামের তরুণ-তরুণীদের বিয়েও ভেঙে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের পুরনো কার্যালয় থেকে সোজা পথ পেরিয়ে সীমান্তের ১১৫/১১৬ নম্বর পিলারের কাছাকাছি নবীনগর গ্রামের অবস্থান। এ গ্রামের পরই ভারতের শাহপুর গ্রাম। গ্রামটিতে ঢোকার জন্য তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। কিন্তু রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ৩৭ পরিবারের ১৩৮ ভোটারের দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই ছোট গ্রামের বাসিন্দাদের পাকা রাস্তা দিয়ে এলাকায় প্রবেশ যেন স্বপ্নের মতো।

নবীনগরের বাসিন্দা আজিজুল হক জানান, যাতায়াতের পথ ভালো না থাকায় রোগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। মাঠের উৎপাদিত ফসল ঠিকভাবে বাড়িতে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পাশের গ্রামের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কাদাপানির রাস্তা মাড়িয়ে এই গ্রামে কেউ আসতে চায় না। বেহাল রাস্তার কারণে অনেক বিয়েও ভেঙে গেছে। গত এক বছরে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এক কথায় নবীনগরবাসী অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে জীবন যাপন করছে।

নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই কিলোমিটার কাদাপানি মাড়িয়ে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসতে চায় না। ফলে এ গ্রামে শিক্ষার হার খুবই কম। রাস্তাটি পাকা করা এখন সময়ের দাবি।

বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজামান বলেন, ‘এলজিইডি অফিস থেকে তথ্য পেয়েছি বাড়িবাঁকা-নবীনগর তিন কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে এক হাজার ৫০০ মিটার পাকাকরণের দরপত্র পাস হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি আশ্বাস দিয়েছেন অবশিষ্ট অংশটুকু আগামী অর্থবছরে সম্পন্ন করা হবে।’

মেহেরপুর এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত মার্চ মাসে সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র পাস হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ শুরু করা যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা