kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

গৃহিণী জায়েদার হাতে অটোরিকশার হ্যান্ডেল

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গৃহিণী জায়েদার হাতে অটোরিকশার হ্যান্ডেল

রাজশাহীর বাঘায় জীবনসংগ্রামে টিকতে অটোরিকশা চালাচ্ছেন জায়েদা বেগম নামের এক নারী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিস্তিতে কেনা অটোরিকশা নিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি।

জানা যায়, বাঘার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর গ্রামে জায়েদা বেগমের বাড়ি। সংসারের অভাব দূর করতে গৃহিণী ধরেছেন অটোরিকশার হ্যান্ডেল। তাঁর স্বামী শাহ জামাল আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছেন। নিরুপায় হয়ে অবশেষে অটো চালানোকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন এক পুত্রসন্তানের এই মা।

জানা যায়, স্থানীয় এক এনজিও থেকে কিস্তিতে ৩২ হাজার টাকা নিয়ে প্রথমে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কেনেন জায়েদা। নিজ এলাকায় কয়েক দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে রাস্তায় নামেন তিনি। সম্প্রতি ওই ভ্যান বিক্রি করে অটোরিকশা কিনেছেন। যাত্রী পরিবহন করে প্রতিদিন ২৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা আয় করেন তিনি। এর থেকে প্রতিদিনের ব্যাটারি চার্জ বাবদ খরচ হয় ৫০ টাকা। বর্তমানে ছেলেসহ দুজনের সংসার ভালোই চলছে। সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা দিতেও কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। খরচ বাদে বাড়তি কিছু টাকা জমাও করেন প্রতিদিন। ছেলে জায়দুল হকের বয়স ১৩ বছর। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। জায়েদার ইচ্ছা ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন।

জায়েদা বেগম বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন যানবাহনে পেশাদার নারী চালক আরো দরকার। নারীদের জন্য পরিবহনের বিশেষ কোনো সুবিধা নেই। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলে নারী চালকের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।’

পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মেরাজ বলেন, ‘নারীরা সহজে ধৈর্যহারা হয় না। তাদের মধ্যে ওভারটেক করার প্রবণতা থাকে না। সে ক্ষেত্রে নারীরা গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার হার অনেক কমে যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা