kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

স্কুল দুটি কি রক্ষা পাবে?

ভূরুঙ্গামারীতে নদ-নদীর পানি কমলেও ভাঙছে তীর

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার, ফুলকুমার, কালজানীসহ সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙছে তীর। এ অবস্থায় দুধকুমার নদতীরের পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা এলাকা, পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আব্দুল করিম (১৫০০) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া পাইকডাঙ্গার তিনটি মসজিদসহ কয়েক শ হেক্টর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

অন্যদিকে কালজানীর ভাঙনে বিজিবি ক্যাম্প, শীলখুড়ি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনবসতিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকিতে আছে। এ ছাড়া পাকা রাস্তা, খেয়াঘাট, ঘাটসংলগ্ন বাজার, বসতভিটা, গাছের বাগান, বাঁশঝাড় আর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে পাইকডাঙ্গার ঘটু শেখ ও আজগর আলী বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর আগে হামার বসতভিটা নদীত হারায়ছি বাহে। তারপর ফিরে পাইছিলেম। আবার হারাইলাম। এহন কী করুম, কই যামু বাহে।’

পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে বিদ্যালয় দুটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’ তাই ভাঙনরোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের নলেয়া, কামাত আঙ্গারিয়া, চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা, পাইকডাঙ্গা, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণপাড়, বলদিয়া ইউনিয়নের হেলোডাঙ্গা, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুঠি, দক্ষিণ তিলাই ও শীলখুড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছিল।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, দুই দফা বন্যায় মোট ১২ হাজার ৮৮৪টি পরিবারের ৭৫০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, আলোকিত ভূরুঙ্গামারী ও দুধকুমার নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহানারা বেগম মীরা জানান, তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

দক্ষিণ তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরিদুল হক শাহিন শিকদার, চর ভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান এ টি এম ফজলুল হক, শীলখুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ ও পাইকেরছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, ‘ভাঙনকবলিত মানুষের দুর্দশা লাঘবে সরকারি সহযোগিতার অপেক্ষায় আছি।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাউবোর সমন্বিত পরিদর্শন শেষে নদীশাসনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরুজুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবেলা করেছি তেমনি নদী ভাঙনরোধেও প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাউবোর মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা