kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

১৫ মাসের উন্নয়নকাজ শেষ হয়নি ২৫ মাসেও

জয়পুরহাটআক্কেলপুর সড়ক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৫ মাসের উন্নয়নকাজ শেষ হয়নি ২৫ মাসেও

উন্নয়নের নামে সড়কের কার্পেটিং তুলে পাথর-বালু দিয়ে এভাবেই দুই বছরের বেশি সময় ধরে ফেলে রাখা হয়েছে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়ক। এতে বর্ষায় কাদাপানি আর খরায় ধুলাবালিতে চলাচলে সমস্যায় পড়েছে এলাকাবাসী। ছবি : কালের কণ্ঠ

চুক্তি অনুযায়ী ১৫ মাসের মধ্যে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের ১৮ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ শেষ হওয়ার কথা। সেখানে পেরিয়ে গেছে ২৫ মাস। অথচ এই সময়ের মধ্যে মাত্র চার কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হয়েছে।

ভাঙাচোরা সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন বিকল হয়ে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, জয়পুরহাট হাসপাতালে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কারণে অনেক প্রসূতি সড়কেই সন্তান প্রসব করেছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।

এর মধ্যে জয়পুরহাটের বিভিন্ন সড়কের কাজে ধীরগতির জন্য জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহ্মুদ স্বপন অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় যোগ দিয়ে তিনি এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দেন তিনি।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জয়পুরহাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের চারটি সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণে জন্য ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। প্রকল্পের আওতায় ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জয়পুরহাট শহরের বাটার মোড় থেকে আক্কেলপুর বাজার পর্যন্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধ্রুব কনস্ট্রাকশন। প্রথমে এ কাজে ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা করা হয়।

২০১৮ সালের ২৭ মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এ সময়ের ভেতর অর্ধেক কাজও করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হলে সময় বাড়ানোর আবেদন করে তারা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম দফায় সময় বাড়ানো হয়। এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র দুই কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করে। অর্থাৎ মোট ২৫ মাসের মধ্যে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫৬ শতাংশ। আর এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৮ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে সওজের চলমান বিশেষ প্রকল্প, উন্নয়ন প্রকল্প, পিএমপি কাজ বাস্তবায়নের জোনভিত্তিক হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কটি জেলার সঙ্গে আক্কেলপুর উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। প্রতিদিন এ সড়কে জেলা থেকে আক্কেলপুরে যাত্রীবাহী অসংখ্য বাস চলাচল করে। ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করে জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়। এ ছাড়া হিলি বন্দর থেকে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক এই সড়ক দিয়ে বগুড়ার সান্তাহার, নওগাঁসহ সারা দেশে চলাচল করে। তাদের অভিযোগ, দুই বছরের বেশি সময় ধরে উন্নয়নের নামে সড়কটি কার্যত অকেজো করে রাখা হয়েছে। কাজটি দ্রুত শেষ করার দাবিতে এরই মধ্যে জেলায় মানববন্ধন ও পরিবহন ধর্মঘট হয়েছে। তবু কাজে গতি ফেরেনি।

গতকাল রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই পাথর-বালুর মিশ্রণ ফেলে রাখা হয়েছে। কার্পেটিং না করায় ধীরগতিতে হেলেদুলে চলছে যানবাহন। সড়কের কিছু অংশে গর্ত হয়ে পানি জমে গেছে। এ অবস্থা চলছে দুই বছরের বেশি সময় ধরে। আবার শুষ্ক মৌসুমে সড়কটি ধুলাবালিতে একাকার হয়ে যায়। এ ছাড়া সড়কটির দুরবস্থার জন্য প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন বিকল হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ধ্রুব কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

সওজ বিভাগের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, কাজ না করার ফলে গত বছর এই প্রকল্পের ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ফেরত গেছে। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ মাসের কাজ ২৫ মাসেও শেষ হয়নি। তাই মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ২৮ দিনের মধ্যে সাইটে পর্যাপ্ত মাল ও লোকবল এনে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অন্যথায় চুক্তি বাতিল করে অন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা