kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

দুর্গম পাহাড়িরা সুবিধাবঞ্চিত

দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের রান্যাপাড়া, বাশিরামপাড়া ও ভূতাছড়া খুবই অবহেলিত জনপদ। দুর্গম হওয়ায় কোনো জনপ্রতিনিধিও এসব পাড়ায় আসেন না

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্গম পাহাড়িরা সুবিধাবঞ্চিত

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে সরব অনেকে। আবার আন্দোলন হচ্ছে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্যও। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। কিন্তু পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকায় এখনো কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলের বেশির ভাগ পাড়ায় এখনো নলকূপ, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সরকারি সুবিধাবঞ্চিত এসব পাড়ার দরিদ্র জনগোষ্ঠী। স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দেখা মেলে না এসব পাড়ায়। এখানে বিদ্যুতের ছোঁয়াও লাগেনি। সেই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেরও কোনো উন্নয়ন হয়নি। এসব পাড়ার শিক্ষার্থীদের ৮-১০ কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রান্যাপাড়া, বাশিরামপাড়া ও ভূতাছড়া খুবই অবহেলিত জনপদ। এ তিন পাড়ায় প্রায় ৬০ পরিবারের বসবাস। অসুখ হলে পাড়ার বৈদ্যই (স্থানীয় কবিরাজ) একমাত্র ভরসা। দুর্গম এলাকা হওয়ায় কোনো জনপ্রতিনিধিও এসব পাড়ায় আসেন না।

রান্যাপাড়ার গৃহবধূ নিশী রানী ত্রিপুরা (৩০) ও কীর্তি রানী ত্রিপুরা (৪৫) জানান, তাঁদের পাড়ায় কোনো নলকূপ ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই। একই পাড়ার মিনতা ত্রিপুরা ও জ্যোতিকা ত্রিপুরা জানায়, তারা দুজনই ছোটমেরুং উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। তাদের বাড়ি থেকে বিদ্যালয় ১০ কিলোমিটার দূরে। তাই তারা লম্বাছড়া এলাকায় স্বজনদের বাড়িতে থেকে বিদ্যালয়ে যায়। লম্বাছড়া থেকেও বিদ্যালয়ের দূরত্ব চার কিলোমিটার। এদিকে ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যায় নবম শ্রেণির অন্য ছাত্র প্রীতি ত্রিপুরা। তবে দূরত্বের কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া হয় না তার। মেকাপ ত্রিপুরা (১০) জানায়, তাদের পাড়ায় কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

একই পাড়ার কমলা দেওয়ান ত্রিপুরা (৪৫) জানান, নির্বাচনের সময় তাঁরা নিজ উদ্যোগে গিয়ে ভোট দিলেও কোনো প্রার্থী কখনো তাঁদের এলাকায় আসেন না। আর নির্বাচনের পর তো কখনো কোনো জনপ্রতিনিধির চেহারাও দেখেন না তাঁরা।

রান্যাপাড়ার কার্বারী (পাড়াপ্রধান) বৃহৎ কুমার ত্রিপুরা (৬০) জানান, তাঁদের তিন পাড়ার লোকজন সরকারি সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাঁদের স্বাস্থ্যসম্মত কোনো পায়খানা ও নলকূপ নেই। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এমনকি প্রতিবন্ধী ভাতাও পায় না সেখানকার কোনো মানুষ। আর সড়কব্যবস্থার খুবই নাজুক অবস্থা। কাদামাখা পাহাড়ি ঢাল বেয়ে কোনোমতে হাট-বাজারে যেতে হয় তাঁদের।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হেলাল বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার পাঁচ বছরে ৫-১০টা ভাতা প্রদানের সুযোগ পান। সেগুলো বৃহৎ এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে বণ্টন করতে হয়। তবে আগামীতে দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদেরও এই সুযোগ দেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা