kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

বরিশাল

লঞ্চযাত্রায় গাদাগাদি

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। এতে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে প্রতিদিনই লেগে থাকছে উপচে পড়া ভিড়। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানছে না যাত্রীরা। মুখে মাস্ক না পরে গা ঘেঁষাঘেঁষি বসে নদীপথ পাড়ি দিচ্ছে তারা। ফলে ঈদ আনন্দ উপভোগ শেষে করোনা ঝুঁকি নিয়েই কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। তা ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌপথ পাড়ি দেওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকেই যাচ্ছে।

গতকাল বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে সরেজমিনে দেখা যায়, লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বিকেল গড়াতে না গড়াতেই ঘাটে অবস্থান নেওয়া লঞ্চগুলো যাত্রীতে ভরপুর। যাত্রীদের চাপে লঞ্চে পা ফেলার জায়গাটুকুও ছিল না।

লঞ্চে প্রবেশের আগে মুখে মাস্ক পরা, হাত-পা ধোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও যাত্রীদের নিরাপদ সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার তদারকি করতে দেখা যায়নি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে। বরং যাত্রীরা একে অন্যের গায়ের সঙ্গে মিশে ছিল। ডেকে বসে থাকা বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। ডেকে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর পাশাপাশি কেবিনের বারান্দায় ও লঞ্চের সামনে যাত্রী তুলেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রশাসন কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। ফলে যে যেভাবে পেরেছে গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে ঘাট ত্যাগ করেছে।

এমভি সুরভি-৯ লঞ্চের ধারণক্ষমতা এক হাজার ৫৫ জন হলেও প্রায় তিন গুণ যাত্রী তুলেছে কর্তৃপক্ষ। সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ধারণক্ষমতা ৮০০ জন হলেও দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে ঘাট ছেড়েছে। এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সামনে যাত্রীদের হাতে ও পায়ে জীবাণুনাশক ছিটানো হলেও ভেতরে মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি।

বিআইডাব্লিউটিএর বরিশালের বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু গতকাল বলেন, ‘লঞ্চে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে মালিক ও কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে সকাল থেকে লঞ্চঘাট এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি নৌবন্দরের প্রধান ফটকে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের পুরাপুরি স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা দরকার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা