kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

গডফাদাররা অধরা

► রংপুর অঞ্চলে ছয় মাসে দুই খুন, অর্ধশত ইজি বাইক চুরি
► চোরেরা চুরি করে দালালের কাছে বেচে, দালালরা বেচে গডফাদারদের কাছে
► ৬০ জন চোর এই অঞ্চলে ইজি বাইক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাত গডফাদার প্রায় ৬০ জন চোরকে নিয়ন্ত্রণ করেন। রংপুর অঞ্চলে গত ছয় মাসে চক্রটির হাতে দুই খুনসহ অর্ধশত ইজি বাইক চুরি হয়েছে। দু-একজন চোরকে ধরতে পারলেও পুলিশ গডফাদারদের ধরতে পারছে না।

পুলিশ জানায়, রংপুরের গঙ্গাচড়ার বাবর আলীর ছেলে ওবায়দুল্লাহ ওরফে মোস্তফা (৫৫) রংপুর শহরের কেরানিপাড়ায় থাকেন। শহরের বিনোদপুরে (রেলগেট) তাঁর ‘রুবেল রিকন্ডিশন অটো সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ইজি বাইক মালিকদের সর্বনাশের কেন্দ্র।

রংপুর অঞ্চলের প্রায় সব চোরাই ইজি বাইক কেনাবেচার আস্তানা এটি। পাশাপাশি এই অঞ্চলের ইজি বাইক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় চিহ্নিত সাত গডফাদারের মধ্যে মোস্তফা একজন। বাকি গডফাদারদের মধ্যে রংপুরে পাঁচজন এবং দিনাজপুরের একজন রয়েছেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৬০ জন চোর এই অঞ্চলে ইজি বাইক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত রয়েছে।

দিনাজপুরের বিরামপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন রাতে হরিহরপুরে দুটি ইজি বাইক চুরির সময় দুর্বৃত্তরা মালিক নাসির উদ্দিনকে হত্যা করে। পরদিন নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ ঘটনায় অভিযান চালায় পুলিশ। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পার্বতীপুর উপজেলার উত্তর দরগাপাড়ার কফুল উদ্দিনের ছেলে মোজাহার, রংপুরের বদরগঞ্জের মকসেদপুরের মজিবুল হকের ছেলে জাহিদুল ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর রামচন্দ্রপুরের আবুল হোসেনের ছেলে এবাদত ওরফে নয়ন ওরফে পিচ্চিকে (২৫) গ্রেপ্তার করে।

রিমান্ডে এসে মোজাহার জানায়, ইজি বাইক চুরির ঘটনায় এই হত্যাকাণ্ডে জাহিদুল, পিচ্চিসহ ছয়জন জড়িত ছিল। ঘটনার দুই দিন আগে নাসিরের বাড়ি টার্গেট করে ইজি বাইক চুরির পরিকল্পনা করে তারা। ২৪ জুন সন্ধ্যায় বিরামপুর পৌর শহরের হাবিবপুর মোড়ে একত্রিত হয়ে রিকশাভ্যানে তারা ঘটনাস্থলের একটি বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে তারা নাসিরের বাড়িতে ঢোকে। এ সময় নাসির জেগে উঠলে তারা তাঁকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে হাত-পা বেঁধে বাড়ির পাশে জঙ্গলে ফেলে রেখে দুটি ইজি বাইক নিয়ে যায়। সেখানেই মারা যান নাসির।

গ্রেপ্তার পিচ্চি পুলিশকে জানান, একটি ইজি বাইক রংপুরের বদরগঞ্জের গাছুয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে জিয়াউর রহমান ওরফে বাবুর মাধ্যমে বেচা হয়। পুলিশ গত ৬ জুলাই বাবুকে গ্রেপ্তার করে। বাবু ওই চক্রের একজন দালাল উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, সে চোরদের সঙ্গে গডফাদারদের সমন্বয় করে দেয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর রংপুর অঞ্চলের ইজি বাইক চুরি-ছিনতাই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যে, রংপুর শহরের বিনোদপুরে ‘রুবেল রিকন্ডিশন অটো সেন্টার’ থেকে বিরামপুরের চুরি যাওয়া একটি ইজি বাইক উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মোজাহার, জাহিদুল এবং পিচ্চি জানান, রংপুর অঞ্চলে ইজি বাইক চুরি-ছিনতাই চক্রের গডফাদার রয়েছেন সাতজন। তাঁরা হলেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান গ্রামের আশরাফুল, সোহেল, জুয়েল, আমিনুল ও আমজাদ, গঙ্গাচড়ার ওবায়দুল্লাহ ওরফে মোস্তফা এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের কুশদহ গ্রামের জাকির হোসেন।

দিনাজপুরের বিরামপুর সার্কেলের এএসপি মিথুন সরকার জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণত চুরি যাওয়া ইজি বাইক উদ্ধারের পর বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক করে তদন্ত শেষ করেন। ফলে ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক চুরি-ছিনতাই বন্ধ হয় না। এ চক্রের সব গডফাদার এবং চোরদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা