kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

ভয়ের ২১ ঘণ্টা

সিলেটে বোমা আতঙ্ক, উদ্ধার হলো গ্রাইন্ডিং মেশিন

সিলেট অফিস   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভয়ের ২১ ঘণ্টা

সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় বোমাসদৃশ বস্তুকে ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনীর বোমা, বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদল ও পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় এক পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলে বোমাসদৃশ বস্তুকে ঘিরে বুধবার রাতভর আতঙ্কে কাটাতে হয়েছে এলাকাবাসীকে। পুলিশ-র‌্যাব ঘিরে রাখে পুরো এলাকা। বন্ধ করে দেওয়া হয় যানচলাচল। অবশেষে গতকাল বিকেলে সেনাবাহিনীর বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদল এসে এটি উদ্ধার করে জানায় তা বোমা নয়। এটি একটি গ্রাইন্ডিং মেশিন, যা দিয়ে টাইলস বা রড কাটা হয়।

গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চৌহাট্টা এলাকায় (আগের পুলিশ চেকপোস্টের সামনে) ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট চয়ন নাইডু তাঁর কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেল রেখে পাশের একটি দোকানে চশমা কিনতে যান। দোকান থেকে ফিরে এসে মোটরসাইকেলে উঠতে গিয়ে একটি বস্তু মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের কাছে রাখা দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিভাইসের মতো বস্তু দেখে তাঁদেরও সন্দেহ হয়। পরবর্তী সময় র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে জানানো হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁরা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় নিরাপত্তার কারণে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থলে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি), র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।

এদিকে এ ঘটনায় চৌহাট্টা এলাকাসহ নগরে আতঙ্ক দেখা দেয়। এ সময় ফার্মেসি ছাড়া অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রচুরসংখ্যক উত্সুক জনতাকে ঘটনাস্থলে ভিড় করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে থাকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উত্সুক জনতাকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট চয়ন নাইডু জানান, তিনি সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেল রেখে চশমা কিনতে একটি দোকানে ঢোকেন। দোকান থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠতে গিয়ে পা রাখার স্থানে ড্রিল মেশিনের মতো বোমাসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

এদিকে রাতেই র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু বস্তুটি উদ্ধার করা যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আশপাশের সড়কগুলোতে যানচলাচল সীমিত করে দেওয়া হয়। বেলা আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর সিলেট ১৭ পদাতিক ডিভিশনের একটি বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদল ঘটনাস্থলে এসে পর্যবেক্ষণ করে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সেনাবাহিনীর বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী রাহাত আল রাশিদী বলেন, ‘হতে পারে ভুলবশত, অথবা হতে পারে কেউ এটা (বোমাসদৃশ বস্তু) পুলিশ সদস্যের গাড়িতে রেখে একটা আতঙ্ক ছড়াতে চেয়েছিল।’

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘আমরা দুই দিক থেকে চিন্তা করতে পারি। কেউ ভুলবশত গ্রাইন্ডিং মেশিনটা এখানে রেখে যেতে পারেন। আবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, সরকারি গাড়ি, সে জন্য আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বা জনমনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির জন্য হয়তো কেউ রেখে থাকতে পারেন।’ এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা