kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ

‘ত্রুটিপূর্ণ’ লঞ্চে যাত্রী পারাপার

গণেশ পাল, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে গতকাল সকাল থেকে ঢাকামুখী হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষের ঢল নামে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। করোনার ঝুঁকি নিয়েই গাদাগাদি করে লঞ্চে ওঠে যাত্রীরা। এদিকে যাত্রীনিরাপত্তার পাশাপাশি নৌদুর্ঘটনা মোকাবেলায় প্রতিটি লঞ্চে জরুরি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকার কথা। অথচ ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী বেশির ভাগ লঞ্চেই তা নেই। বহু বছরের পুরনো অনেক লঞ্চের ওপর চকচকে রঙের প্রলেপ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিনসহ ভেতরের অনেক কিছুই জোড়াতালি দেওয়া। সেখানে প্রশিক্ষিত মাস্টার না নিয়ে অল্প বেতনে অনভিজ্ঞ ‘হেলপার’ দিয়ে লঞ্চ চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট লঞ্চ মালিকদের অনেকে। ‘ত্রুটিপূর্ণ’ লঞ্চে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে যাত্রী পারাপার করায় গতকাল এমভি মণিহার ও এমভি রেজোয়ান নামের দুই লঞ্চ মালিককে নগদ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ একটি দল।

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চ পারাপার হয়। প্রতিবছর ঈদের সময় সেখানে যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। তেমনি এবারের ঈদ শেষে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মস্থল ঢাকায় ছুটছে কর্মজীবী মানুষ। তাই গতকাল সকাল থেকেই দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে হাজারো মানুষের ঢল নামে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লঞ্চে গাদাগাদি করে উঠে নৌপথ পাড়ি দিচ্ছে যাত্রীরা। ওই নৌপথের বহরে মোট ২২টি লঞ্চ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি এমভি (বড়) ও পাঁচটি এমএল ছোট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলাচলকারী ওই লঞ্চগুলো ৩৫ থেকে ৪০ বছরের পুরনো। প্রতিটিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার বাকেট, বালুভরা বাক্স, পাম্প মেশিন, প্রয়োজনীয়সংখ্যক লাইফ বয়া, ফার্স্ট এইডসহ জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকার কথা থাকলেও বেশির ভাগ লঞ্চে তা নেই। এদিকে নৌদুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের। এ জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া উভয় ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএর দুজন ট্রাফিক পরিদর্শক রয়েছেন। তাঁরা লঞ্চ টার্মিনালে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে যথাযথভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক নজরদারি না থাকার সুযোগে ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে সার্বক্ষণিক যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

গতকাল দুপুরে দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনালে অভিযান চালায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ একটি দল। এ সময় তারা লঞ্চের ভেতর যাত্রীনিরাপত্তা ও জীবন রক্ষাকারী জরুরি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় এমভি মণিহার লঞ্চের মলিককে ১৮ হাজার ও এমভি রেজোয়ান নামের অন্য এক লঞ্চের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। আভিযানিক দলের নেতৃত্বে ছিলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী সচিব রেজাউল করিম। বিআইডাব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা বিভাগের সহকারী পরিচালক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’

মন্তব্য