kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

পানিবন্দি ২০০ পরিবার

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার দুটি গ্রাম বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানিবন্দি ২০০ পরিবার

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে চার-পাঁচ বছর ধরে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলে গ্রামে চলাচলের সড়ক ডুবে যায়। জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে দুই শতাধিক বাড়িঘর।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের বৃষ্টির পানি পাশের ক্ষেতলাল উপজেলার সীমানা দিয়ে অপসারিত হতো। কিন্তু ক্ষেতলাল সীমান্তে নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করার পর থেকে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারি জমিও ভরাট করেছেন। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে সেই থেকে জলমগ্ন অবস্থায় বসবাস করছে গ্রাম দুটির দুই শতাধিক পরিবারের প্রায় সহস্রাধিক মানুষ।

গত মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। ডুবে আছে বেশ কিছু বাড়িঘরও। এ ছাড়া সারা বছর ঘর-গৃহস্থালির অপসারণ করা পানি প্রবাহের নর্দমাগুলোও ডুবে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ডুবে থাকার কারণে একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদরাসায় শিক্ষাদানে ঘটছে চরম ব্যাঘাত। সড়ক ও মাদরাসায় জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে শিশুরা মাদরাসায় আসতে পারে না। দীর্ঘ সময় পানিবন্দি হয়ে থাকার ফলে পরিবারের সদস্যরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সড়ক ডুবে থাকার ফলে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিয়ে যেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামের কৃষকদের। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান মেলেনি। পরে স্থানীয় জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করার পর চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া কয়েক দফা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদরাসার পরিচালক তাজমহল হোসাইন বলেন, পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে গ্রামের সড়ক ও মাদরাসা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় আসতে পারে না।

গ্রামের পল্লী প্রাণী চিকিৎসক নবীর উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুরাহার জন্য দরবার বসিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

গ্রামের বাসিন্দা আনিছুর রহমান, কোহিনুর বেগম ও সালামত আলী জানান, আগে যে জমি দিয়ে দুই গ্রামের বর্ষার পানি নিষ্কাশন হতো সেই জমি ভরাট করার ফলে তাদের এই ভোগান্তি। বর্ষার পানিতে গ্রামের সড়কসহ তাঁদের বাড়িঘরও ডুবে আছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের ওপরমহলের হস্তক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।

জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘গ্রাম দুটো কালাই উপজেলার হলেও পানি নিষ্কাশনের পথটি ক্ষেতলাল পৌরসভা সীমানার মধ্যে। এ ব্যাপারে ক্ষেতলাল পৌরসভা মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সহযোগিতা না করায় সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।’

ক্ষেতলাল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামগুলোর পানি নিষ্কাশনের আগের যে পথ সেটির জমি ভরাট করে এখন তাঁরা যে পথে পানি নিষ্কাশন করার কথা বলছেন, সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে। বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে কি পানি নিষ্কাশনের পথ বের করা সম্ভব?’

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করার ফলেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা