kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

হাসপাতালে রোগী নেই, বিছানায় বিড়াল

ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হাসপাতালে রোগী নেই, বিছানায় বিড়াল

বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিছানা ও মেঝেতে বিড়াল দেখা যাচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন রোগী নেই বললেই চলে। এই সুযোগে হাসপাতাল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিড়ালের দল। রোগীদের বিছানায় নির্বিঘ্নে শুয়ে থাকছে বিড়াল।

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার। করোনা ক্রান্তিকালে দিনের পর দিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ কর্মরত চিকিৎসকরা হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকায় কমে গেছে রোগীর সংখ্যা। সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় উপজেলার একমাত্র এ হাসপাতালের প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

হাসপাতালে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও নার্সরা মিলে কোনো রকমে চালাচ্ছেন চিকিৎসা পরিষেবার কাজ। একেবারে নিরুপায় হয়ে যে কয়েকজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসে, তাদের বেশির ভাগকেই আবার রেফার্ড করা হয় বগুড়া মেডিক্যাল কলেজসহ অন্যান্য হাসপাতালে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রায় সব শয্যা ফাঁকা। রোগীর কোনো আনাগোনা নেই। দর্শনার্থীদের দেখাও মেলেনি। অবস্থা দেখে মনে হয়, এটি এখন বিড়ালেরও আবাসস্থল। রোগীর বিছানায় আয়েশি ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছে বিড়াল। বিড়ালগুলো বেশ হৃষ্টপুষ্ট। এখানেই তারা থাকে। বিড়ালের কারণে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ঝুঁকি রয়েছে। হাসপাতালের বিড়াল খাওয়াদাওয়ার জন্য বিভিন্ন ডাস্টবিনে যায়। সেখান থেকে জীবাণু নিয়ে বিছানায় উঠে বা খাবারে মুখ দিয়ে জীবাণু ছড়াতে পারে। এ ছাড়া বিড়ালের আঁচড় থেকেও রোগ হতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা যায়, হাসপাতালের মেঝেতে ছড়িয়েছিটিয়ে আছে কাগজ, তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ ও ওষুধের প্যাকেট। বেডগুলো এলোমেলো। বিছানো কাপড়গুলো অপরিষ্কার, ময়লা ও রক্তমাখা। সব সময়ই এমন থাকে। রোগীদেরই বিছানা পরিষ্কার করতে হয়। আর শৌচাগারের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধে সবাইকে নাকে কাপড় দিয়ে চলতে হচ্ছে।

হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগীর মা বলেন, ‘হাসপাতালে আমি তিন দিন ছিলাম। পুরো শিশু ওয়ার্ডে আমি একাই ছিলাম।’

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হাছিব বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সব পদ শূন্য। এ কারণে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে। করোনা ক্রান্তিকালে ভর্তি রোগীস্বল্পতার কারণে ফাঁকা ওয়ার্ডে বিড়াল প্রবেশ করতে পারে। পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা