kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

পানি কমলেও বেড়েছে ভাঙন

রংপুরে বন্যার ধকলে বসতভিটা ছেড়ে যাচ্ছে চরের বাসিন্দারা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পানি কমলেও বেড়েছে ভাঙন

রংপুরে বন্যায় পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবন পার করছিল চরাঞ্চলের মানুষ। এখন বন্যার পানি নেমে গেলেও বেড়েছে নদীভাঙন। চোখের সামনে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ জমিজমা তিস্তায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে আতঙ্কে বসতভিটা ছেড়ে দূর অজানায় পাড়ি জমাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষ।

জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের শংকরদহ চরের বাসিন্দা নুর বানু (৫৫) কষ্টের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘কয়দিন থাকি পানিত থাকতে থাকতে পাওগুলা দগদগা (ঘা) হইচে বাহে, হাইটপারে পাও না। এ্যালাও ঘরোত থকথকে কাদা। সেও ঘর কোনদিন বা নদীত ভাঙি যায়। ভয়ে রাইতোত নিন ধরে না।’

স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যার ক্ষত রয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকায়। আগামী ছয় মাসেও সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারবে না ক্ষতিগ্রস্তরা। এর ওপর তিস্তার ভাঙন শুরু হওয়ায় উৎকণ্ঠা কাটছে না চরের বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে গতকাল শংকরদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শংকরদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আশ্রয়ণকেন্দ্রের মসজিদটিও আর নেই। আতঙ্কে সেখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে।

বর্তমানে শংকরদহ আশ্রয়ণকেন্দ্রে মাত্র ১০টি পরিবার বসবাস করছে। সেখানকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, ‘যেভাবে ভাঙন আগে আসতোছে তাতে হামারও বুজি এ্যাটে থাকা হবার নয়।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মোন্নাফ জানান, শংকরদহ গ্রামে প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস ছিল। বন্যাসহ তিস্তার ভাঙনের কারণে ৩০০ পরিবারই এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

লক্ষ্মীটারি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘বন্যা ও তিস্তার ভাঙনে শংকরদহ গ্রামটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকায় এখন কাজ নাই, খাবারও নাই। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় এখানকার বাসিন্দারা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা