kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

মেহেরপুরে করোনা ইউনিট

খাবারেও জালিয়াতি

ইয়াদুল মোমিন, মেহেরপুর   

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খাবারেও জালিয়াতি

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে কভিড-১৯ পজিটিভ রোগীকে সেবা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত চিকিৎসকসহ সবাইকে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার।

গত ৩১ মে থেকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়। গতকাল বুধবার ওই ওয়ার্ডে চারজন কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনায় সবচেয়ে কম আক্রান্ত জেলা মেহেরপুর। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১১২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৬৫ জন। মোট মারা গেছে ছয়জন। গত দেড় মাসে কভিড ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১৭ জন। আর আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছে ২৬ জন।

করোনাকালীন চিকিৎসা কাজে নিয়োজিতদের থাকার জন্য ১৯টি শয্যার বিপরীতে মাসিক আড়াই লাখ টাকায় ফিন টাওয়ার হোটেল ভাড়া করা হয়েছে। প্রত্যেকের খাবার বাবদ ব্যয় প্রতিদিন ৫০০ টাকা। তাঁদের হাসপাতাল-হোটেল (দুই কিলোমিটার) যাতায়াত ব্যয় মাসিক ৩০ হাজার টাকা।

এদিকে কভিড রোগীকে সেবা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত চিকিৎসকসহ সবাইকে নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ৫০০ টাকা শুধু খাবারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তিন বেলার খাবারের যে মান তাতে ২৫০ টাকাও হবে না বলে অভিযোগ করেছেন সেবাদানে নিয়োজিত অনেকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোয়ারেন্টিনে থাকা কয়েকজন বলেন, সকালে পাতলা চারটি রুটি ও দুটি ডিম ভাজি করে তিনটি ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দুপুরের খাবারে বেশ কয়েক দিন পর পর ছোট ছোট মাংস দিলেও বেশি দেওয়া হয় খাবার অযোগ্য ছোট শিং মাছ। যা দিয়ে সম্পূর্ণ ভাত খেয়ে শেষ করা যায় না। রাতে একটি ডিম, সঙ্গে সামান্য ডাল ও সবজি। যে মানের সবজি-ডাল দেওয়া হয়, সেটি নেহাত পেটের দায়ে খেতে হয়।

নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের কথা স্বীকার করে ফিন টাওয়ারের বর্তমানে দায়িত্বে থাকা তপন রেজা বলেন, ‘একটু-আধটু ১৯-২০ তো হয়ই।’

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছেও এমন অভিযোগ এসেছে।’

মেহেরপুর সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন বলেন, ‘যদি খাবারের মান নিম্ন হয় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা