kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

বাউফলে বৃদ্ধকে ফাঁসাল পুলিশ

‘পুলিশে ধরলে মান ইজ্জত থাহে না’

এমরান হাসান সোহেল, পটুয়াখালী   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘পুলিশে ধরলে মান ইজ্জত থাহে না’

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা পুলিশি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধকে (৬৫) বলাৎকারের মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি বগা বন্দর সেতু এলাকায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনে তসবিহ, টুপি ও জায়নামাজ বেচেন। বাংলোতে মহিবুল্লাহ থাকেন। সম্প্রতি তিনি বৃদ্ধকে দোকান সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে বৃদ্ধের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং বৃদ্ধকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এদিকে শনিবার রাতে এক শিশুর বাবাকে বাদী করে বাউফল থানায় একটি এজাহার নেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ওই অভিভাবকের শিশুসন্তানসহ আরেক শিশুকে অপহরণ করে বৃদ্ধ যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার বলাৎকার করেন। শনিবার রাতেই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সিহাব উদ্দিনের আদালতে ওই দুই শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

এদিকে মামলার বাদী অভিযোগ করেন, মহিবুল্লাহ শনিবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে তদন্তকেন্দ্রে ডেকে নিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে জানতে পারেন, তাঁর ছেলেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে বাদী করা হয়েছে। তবে শিশুটি মা-বাবাকে জানায়, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং বাদী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে ছোট, নাবালক। ওকে ভয় দেখিয়ে পুলিশ স্বীকারোক্তি আদায় করেছে।’

শিশুর মা বলেন, ‘সোমবার রাতে আমাদের খবর দিয়ে বাউফল থানায় নেওয়া হয়। আমরা ওসিকে  বলেছি ঘটনাটি মিথ্যা। তিনি আমাদের কোনো কথা না শুনে উল্টো ধমক দিয়েছেন।’ একপর্যায়ে ওসি তাঁর ছেলেকে থানায় রেখে দেন এবং অভিভাবক দুজনকে বাড়ি চলে যেতে বলেন। পরে তাঁরা রাত ১টার সময় বাড়ি চলে যান।

আসামির স্ত্রী আলোকা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘বগা ডাকবাংলোর সামনে আমার স্বামী দোকান করেন, বৃদ্ধ মানুষ। ওই ডাকবাংলোয় মহিবুল্লাহ থাকেন। স্বামীকে দোকান সরাইয়া নেতে কইছে। সে হোনে নাই। এই লইগ্যা আমার স্বামীরে অনেক ধমক দেছে। আমি হ্যারে কইছিলাম, দোকানডা সরাইয়া নেন। আমার কতাও হোনে নাই। কইছি পুলিশে ধরলে, মান-ইজ্জত থাহে না। অ্যাহন তো হেইয়াই অইছে। আমাগো মান-ইজ্জত অ্যাহন আছে? সব শ্যাষ।’

আসামির ছেলে অভিযোগ করেন, ‘বাবা দুই দিনে দুইটা ছেলেকে অপহরণ করে বলাৎকার করল, কেউ জানল না? শুধু মহিবুল্লাহ জানলেন? তিনি পরিকল্পিতভাবে বাবাকে ফাঁসিয়েছেন। আমি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই।’

ওই এলাকার দোকানি আব্দুল আজিজ সিকদার বলেন, ‘এ লোকটি খারাপ কখনো শুনিনি।’

বগা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সিকদার বলেন, ‘আমার বাসার সামনেই এ লোকটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন। কখনো কোনো খারাপ ঘটনা তাঁকে নিয়ে শুনিনি। এটি ষড়যন্ত্র হতে পারে।’

বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখবেন।’

বগা তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মহিবুল্লাহ বলেন, ‘কোনো বিরোধের জের ধরে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্র্রেক্ষিতে বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১০ ও ১১ বছরের দুই শিশুকে অপহরণ করে বলৎকারের অভিযোগে থানায় মামলা রয়েছে। আমিও শুনেছি, মামলার বাদী এখন ঘটনাটি অস্বীকার করছেন। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপে পরে তিনি (বাদী) এ ঘটনা অস্বীকার করছেন।’

বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বলৎকারের শিকার ওই দুই শিশু থানায় উপস্থিত হয়ে আমার কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। ওই দুই শিশুর বক্তব্য রেকর্ড করা আছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা