kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

মানিকগঞ্জ

চালচোর ডিলার

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চালচোর ডিলার

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুস সামাদ আজাদ। তাঁর বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪২ জন কার্ডধারীর চাল চার বছর ধরে চুরির অভিযোগ উঠেছে। নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর হুবহু রেখে এই ৪২ জনকে দুইবার করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ডিলার আজাদ ১ থেকে ৩৪০ ক্রমিক পর্যন্ত কার্ডধারীর চাল বিতরণ করেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১২২ থেকে ১৪২ ক্রমিক পর্যন্ত ২০ জন কার্ডধারীর নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ২০০ থেকে ২২০ ক্রমিকে বসানো হয়েছে। অর্থাৎ ২০ জন কার্ডধারী চাল উত্তোলন করলেও বাকি ২০ জনের চাল ডিলার আত্মসাৎ করে বাইরে বেশি দামে বেচেছেন।

যাচাই করে দেখা গেছে, ২৮৭, ২৮৮ এবং ২৮৯ ক্রমিকে কার্ডধারী সরলা বেগম একই ব্যক্তি। তিনি ২৮৮ ক্রমিকের কার্ড দিয়ে চাল উত্তোলন করলেও অন্য দুটি ক্রমিকে কার্ডের চাল আত্মসাৎ করেছেন ডিলার। আবার ২৯০ ক্রমিক থেকে ৩০৬ ক্রমিক পর্যন্ত ১৬ জন কার্ডধারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আরেক ডিলার নাজমা বেগমের ৫২৪ থেকে ৫৪০ ক্রমিকে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ১৬ জন কার্ডধারী নাজমা বেগমের কাছ থেকে চাল উত্তোলন করেন। অর্থাৎ ডিলার আজাদ এই ১৬ জনের নামে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরাইদ ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করা হয় ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট। পরবর্তী সময়ে সংশোধন করা হয় ২০১৭ সালের ৮ মার্চ। এর পরও ৪২ জনের নাম দুইবার করে তালিকাভুক্ত করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ইচ্ছাকৃত গরিবের চাল আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই গোঁজামিলের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তার সায় না থাকলে এ রকম তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব নয়।

যোগাযোগ করা হলে ডিলার আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, ‘ভুল হয়ে গেছে। তবে কার্ড না থাকলেও চেয়ারম্যানের তালিকা অনুযায়ী ৩৪০ জনকেই চাল বিতরণ করেছি।’ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় নেতারা মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ তালিকায় কয়েকজনের নাম দুইবার আসার বিষয়টি স্বীকার করেও ‘কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি’ বলে দাবি করেন।

সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাটুরিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মহম্মদ শফিকুল আলম সত্যতা স্বীকার করে জানান, তালিকা তৈরি করেন চেয়ারম্যান, মেম্বাররা। তালিকায় কোন ভুল বা অনিয়ম থাকলে সে দায়িত্ব তাঁদের। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। কর্মসূচির স্লোগান হচ্ছে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধামুক্ত হবে বাংলাদেশ’। এই কর্মসূচির আওতায় অতিদরিদ্র ব্যক্তিরা ১০ টাকা কেজি দরে বছরের পাঁচ মাস ৩০ কেজি চাল উত্তোলন করতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা