kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বগুড়া-১ উপনির্বাচন

ভোটার আনাই বড় চ্যালেঞ্জ

করোনার দুর্যোগ এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে ভোট নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই ভোটারদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ভোটার আনাই বড় চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগ : নৌকার পক্ষে গতকাল গণসংযোগে বক্তব্য দিচ্ছেন কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ আগামীকাল। তাই গতকাল মধ্যরাত থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে বিএনপি মাঠে না থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা গোটা নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন।

অন্য প্রার্থীরাও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন। তবে শেষ মুহূর্তে ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ করোনার দুর্যোগ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে ভোট নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই ভোটারদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। এর মধ্যে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার কারণে ভোট উৎসবে অনেকটা ভাটা পড়েছে। তবে বিএনপি মাঠে না থাকলেও গোটা নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

সোনাতলা উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামের কৃষক মহিন উদ্দিন ও হুয়াকুয়া গ্রামের দিনমজুর আবুল ফজল বলেন, বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কারণে বন্যা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত তাঁরা। বন্যার পানিতে বাড়িঘর ডুবে গেছে। এ অবস্থায় ভোটের বিষয়টি তাঁদের মাথায় নেই।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুর্গম চর উত্তর শিমুলতাউড়। এক মাস আগেও এই চরে বসবাস ছিল দুই শতাধিক পরিবারের। এরই মধ্যে যমুনার প্রবল ভাঙনের কারণে উত্তর শিমুলতাইড় চরের প্রায় ২০০ পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

শিমুলতাইড় চরের কৃষক আমিনুল ইসলাম সাকিদার বলেন, চরের ২০০ পরিবারের কারো কাছেই এখন ভোটের কোনো আনন্দ নেই। তাই ভোটের দিন কেন্দ্রে যাবেন না তাঁরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনাতলা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘করোনা ও বন্যার কারণে সাধারণ মানুষ চিন্তিত। এ ছাড়া বড় দলের এক প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের কারণে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে।’

সোনাতলা উপজেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার এ এস এম জাকির হোসেন জানান, সাংবিধানিক বাধ্যবাধতার কারণে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তাই নির্বাচন কমিশন ১৪ জুলাই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করেছে। ভোটকেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কসহ অন্যান্য নিরাপত্তাসামগ্রী রাখা হবে।

ভোট বর্জন করা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতেই এমন দুর্যোগকালে ভোট নেওয়া হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাহাদারা মান্নান বলেন, ‘এখন নৌকা দিয়ে যাতায়াত সুবিধাজনক। তাই বন্যার কারণে ভোটকেন্দ্রে ভোটারের খরা যাবে না।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তাই স্বচ্ছ ভোট হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।’

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম বলেন, ‘বন্যা ও করোনাভাইরাসের কারণে ভোট নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ কম।’ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষ যদি স্বচ্ছভাবে ভোট দিতে পারে তাহলে তিনি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) প্রার্থী রনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সুষ্ঠুভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কোনো প্রার্থীর লোকজন যেন অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে জোরপূর্বক সিল মারতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।’

প্রসঙ্গত, বগুড়া-১ আসনে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের জন্য ১২৩ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৭১০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিসাইডিং অফিসার ও এক হাজার ৪২০ জন পোলিং অফিসারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ আসনে তিন লাখ ৩০ হাজার ৮৯২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।


স্বতন্ত্র : সারিয়াকান্দিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ গতকাল ট্রাক প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন।    ছবি : কালের কণ্ঠ


কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি


যশোর-৬ উপনির্বাচন

এলাকার অনেক ভোটার বলেছেন তাঁরা ভোট দিতে যাবেন না


যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে উপনির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার। কাগজে-কলমে বিএনপির প্রার্থী থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন না পেছানোয় দলটি অংশ নিচ্ছে না। সে হিসাবে মাঠে আছেন শুধু আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী। সে কারণে ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে।

গতকাল রবিবার প্রচারের শেষ দিনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করতে দেখা গেছে।

এই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ।

শাহীন চাকলাদারের পক্ষে গতকাল উপজেলার বায়সা কারিগরপাড়ায় গণসংযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন। ভোটারদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম সরোয়ার বলেন, প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালিয়ে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ রানা বলেন, উপনির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোট নিয়ে উপজেলার বাগদহা গ্রামের ভোটার শামীম আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি ভোট দিতে যাবেন। তবে কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার অনেক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তাঁরা ভোট দিতে যাবেন না।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বজলুর রশিদ জানান, ৭৯টি ভোটকেন্দ্রের ৩৭৪টি বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। 

রিটার্নিং অফিসার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসনটিতে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকা অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট ভোটার দুই লাখ তিন হাজার ১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ দুই হাজার ১২২ এবং আর নারী এক লাখ ৮৯৬ জন। প্রসঙ্গত, এই আসনের সংসদ সদস্য সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক গত ২১ জানুয়ারি মারা যাওয়ায় ২৮ জানুয়ারি আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন এই আসনে উপনির্বাচনের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে।

গত ২৯ মার্চ এই আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু করোনার কারণে নির্বাচন কমিশন গত ২১ মার্চ এই উপনির্বাচন স্থগিত করে। পরে যেসব প্রার্থী ছিলেন এবং যে অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল, সেই অবস্থা থেকেই আবার কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে করোনার কারণে নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে গত ৭ জুলাই নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব

মো. আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপি। নির্বাচন না পেছালে বিএনপি তাতে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দেয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা