kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

পার্বতীপুর

ঋণের ফাঁদে ২০ শিক্ষক পরিবার

আবদুল কাদির, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রাজাবাসর গ্রামের নাজমা খাতুনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে অর্ধশত পরিবার। হুমকি-ধমকি, মামলায় নাজেহালসহ কেউ কেউ ভিটাহারা হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

গত ২৪ জুন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. বেলাল হোসেন, মো. মোফাজ্জল হোসেন, মো. হারুনর রশিদ, মো. সাইদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন, লায়লাবানু, আব্দুল বাকি, মো. মাসুদর রহমান, লুত্ফর রহমান, দেলোয়ার হোসেন সাইদী, মো. আবদুল জলিল, এনামুল হক, সঞ্জয় কুমার, খলিলুর রহমান, আবুল কাশেম, রঘুনাথ রায়, সজিব রায় ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। এঁরা সবাই প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসার শিক্ষক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজাবাসর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন মো. জয়নাল আবেদীন। তাঁর মেয়ে নাজমা খাতুন (৩৫) বিদ্যালয়ে চকোলেট বেচতেন। পরে ব্র্যাক পরিচালিত একটি পাঠাগার দেখাশোনা করতেন। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ে থাকতে সুদের কারবার শুরু করেন। শতকরা ১০ ও ১৫ টাকা মাসিক সুদে ঋণ দেন। সুদাসলে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি টাকা দিয়েও কোনো মানুষ নিস্তার পাননি। তাঁরা অভিযোগে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের নামে সোনালী ব্যাংক হুগলীপাড়া শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব আছে। বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনটনের কারণে ব্যাংকে ঋণের জন্য গেলে দেখা মেলে নাজমা খাতুন, তাঁর ব্যবসার পার্টনার সাখাওয়াত হোসেন সাজু ও নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি (নাজমার বড় ছেলে) নাদির শাহ নয়নের। এঁদের সবার ঠিকানা রাজাবাসর মুন্সিপাড়া।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁরা সহজ শর্তে ঋণদানের কথা বলে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও চেক বইয়ের প্রতিটি খালি পাতায় স্বাক্ষর ও জমির মূল দলিল নেন। এক লাখ টাকার কম হলে মোটরসাইকেল, সোনার গয়নাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে রাখে। ঋণগ্রহীতাকে আশ্বস্ত করেন, টাকা শোধ হলেই এসব জিনিসপত্র ফেরত পাবেন। কিন্তু ঋণগ্রহীতারা আর কখনো তাঁদের দামি জিনিস, দলিল ফেরত পাননি।

এ ছাড়া আরো কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষক, কর্মচারী এ প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করে বলেন, চারজনের বাড়ি, অন্যদের জমি প্রতারণামূলক দলিল করে নিয়েছেন নাজমা, সাজু ও নয়ন। যাঁদের জমি ও বাড়ি প্রতারণা করে নেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন মো. মোশারফ হোসেন মুন্সি, মাহবুবার রহমান, মোতালেব, ফারুক বিন জামান, আফজালুর রহমান, আশরাফুর রহমান, পারুল রায় ও আশরাফ আলী। এঁদের মধ্যে মোশারফের কাছে তিন দফায় নেওয়া হয়েছে ২৩ শতাংশ (দলিল নম্বর ৫২০৮), ৪২ শতাংশ (৫৩১৮) ও ৮৪ শতাংশ (৪৬৬৩) জমি। মোশারফের ভাই-ভাতিজা মোতালেবের কাছ থেকে ২৩ শতাংশ (৮১৯৪), মাহবুবার রহমানের কাছ থেকে দুই দফায় সাড়ে ৪ শতাংশ (৭০১৩) ও ১৫ শতাংশ (২৭৮১), ফারুক বিন জামানের একটি ফ্ল্যাট (২৫৯০), আফজালুর রহমানের ১৯ শতাংশ জমি (১২২১), পারুল রায়ের ৩৩ শতাংশ (৫৮১০) এবং আশরাফ আলীর ৬৪ শতাংশ জমি (৭১৯৫) রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পার্বতীপুর শহরের পুরাতন বাজারের সুভাস রায়ের বাড়ি প্রতারণামূলকভাবে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে নাজমা খাতুন ‘পরে কথা বলব’ বলেন। পরে কল দিলেও ধরেননি।

সোনালী ব্যাংক পার্বতীপুর হুগলীপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক প্রদীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।’

এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাহনাজ মিথুন মুন্নি বলেন, ‘নাজমা খাতুনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

দিনাজপুর জজ কোর্টের আইনজীবী সৈয়দুল আলম শান্তু বলেন, ‘সুদের কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করার বিষয় না। এটি বিচারিক আদালতে বিচার্য।’

অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ দায়রা জজ আ ব ম আবু সাঈদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করলে প্রত্যেকেই প্রতিকার পাবেন।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা