kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

নাসিরনগর ছাত্রলীগ

পদ বাগাতে উপঢৌকন নৌভ্রমণ

► ১৬ বছর পর নতুন কমিটি করার ঘোষণা
► সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে শত প্রার্থী

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ বাগাতে উপঢৌকন নৌভ্রমণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয় ২০০৪ সালে। এর আট বছর পর ২০১২ সালে গঠিত হয় আহ্বায়ক কমিটি। তিন মাস মেয়াদের সেই ছয়জনের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে এখনো চলছে উপজেলা ছাত্রলীগ। তবে করোনা দুর্যোগের মধ্যেই নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেওয়ার পর পরই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে প্রায় ১০০ জন সিভি জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রায় ১০ জন প্রার্থী হতে চাইছেন। এ অবস্থায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ও মন জোগাতে নৌভ্রমণের আয়োজন করা হয়, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০০ নেতাকর্মী কিশোরগঞ্জের মিঠাইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম এলাকায় হাওরে ঘুরতে যান। একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় (ট্রলার) করে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দেন তাঁরা। নৌকাতেই উচ্চ স্বরে গান বাজানো হয়। পরে হাওর এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মীরা পানিতে নামেন। এরপর খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ করেন। তাঁদের ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্তত ১৫-২০ জন স্ট্যাটাস দেয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। করোনা পরিস্থিতিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগে ক্ষোভ থাকলেও কেউ মুখ খুলে কিছু বলতে চাইছে না। মূলত সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের কয়েকজন এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা।

নৌভ্রমণে যোগ দেওয়া ও নাসিরনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ‘একজন আরেকজনকে বলার মধ্য দিয়ে এ আয়োজনটা হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরেই ঘুরতে যাওয়া হয় না বলেই সেখানে যাওয়া। নাসিরনগর থেকে যেতে সাড়ে তিন ঘণ্টার পথ হওয়ায় মূলত সময় কাটানোর জন্যই গান বাজানো হয়েছে। এখানে ছাত্রলীগের গানসহ অন্যান্য গানও বাজানো হয়েছে।’

নৌভ্রমণের আয়োজকদের অন্যতম জি এম সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আসলে আমরা ১০-১৫ জন বন্ধু মিলে ঘুরতে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নৌকায় গিয়ে ছোট ছোট অনেক ভাইয়েরা উঠে যায়। তাদের ফেলে যাওয়ার পরিস্থিতি ছিল না। এতে আমাদের খাবারের সংকটও হয়েছে। এত লোকজন হবে—সেটা আমরা ভাবতেও পারিনি। তবে ছাত্রলীগের সম্মেলনের সঙ্গে এর কোনো যোগসাজশ নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘আমাদের এখানে চেইন অব কমান্ড নেই বললেই চলে। এখন সবাই ছাত্রলীগ করে। আমরা একটি মাধ্যমে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেওয়ার পর শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য প্রায় ১০০ জন সিভি জমা দিয়েছেন। মূলত সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে, যা করোনা পরিস্থিতিতে মোটেও ঠিক হয়নি।’

উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন রানা বলেন, ‘এ আয়োজনের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি আমার জানাও নেই। ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর বিষয়টি আমি জানতে চেয়েছি।’

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি করার উদ্যোগ নেওয়া কিংবা নৌভ্রমণের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। এমন সময়ে কমিটি করার উদ্যোগ কিংবা এভাবে নৌভ্রমণে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। মূলত জেলা কমিটি অথবা কেন্দ্রীয় কমিটি উপজেলা কমিটি গঠনের এখতিয়ার রাখে। কিন্তু নাসিরনগরের একজন জনপ্রতিনিধি এ বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন নিজের মতো করে কিছু একটা করার জন্য, যেটা তিনি পারেন না।’

মন্তব্য