kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তার তালিকা

চেয়ারম্যান-মেম্বারের পরিবারকে প্রণোদনা

► সাদুল্যাপুরে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল করিম দুলার বিরুদ্ধে তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ
► প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে বিত্তশালীদের অন্তর্ভুক্তি

অমিতাভ দাশ হিমুন, গাইবান্ধা   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার রসুলপুরে করোনা দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগী ৭১১ জনের তালিকায় স্থান পায়নি প্রকৃত দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষ। তাদের বদলে এলাকার সচ্ছল ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের তালিকায় রাখা হয়েছে। রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল করিম দুলার নির্দেশে এমন অনিয়ম হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

রসুলপুর ইউনিয়নের সুবিধাভোগী তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, ৩৪৭ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ছান্দিয়াপুর গ্রামের আবদুল্যা আল মামুনের নাম। অথচ তাঁর বাবা জাহাঙ্গীর আলমের রয়েছে চালের মিল ও ৪০ বিঘা জমি। ৩৪৬ ও ৩৫০ নম্বরে রয়েছেন একই গ্রামের ২০ বিঘা জমি ও ভবনের মালিক সচ্ছল দুই ভাই আতোয়ার রহমান ও আলতাফ হোসেন।

স্থানীয়রা জানায়, ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর ১০ আত্মীয়-স্বজনকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার মধ্যে ১৬৬ নম্বরে তাঁর ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ২৫৯ ও ২৬০ নম্বরে আপন দুই ভাইয়ের স্ত্রী লিপি বেগম ও ফিরোজা বেগম, ২৬২ নম্বরে ছোট বোন বুলবুলি বেগম, ২৬৩ ও ২৬৫ নম্বরে দুই চাচা চান মিয়া ও সিরাজ উদ্দিন, ২৬৯ ও ৬৩৫ নম্বরে দুই চাচাতো ভাই রায়হান সরকার ও কামরুজ্জামান, ৬৩৭ নম্বরে ফুফাতো ভাই আমিনুল ইসলাম এবং ৬২৮ নম্বরে ফুফাতো ভাইয়ের ছেলের স্ত্রী শারমিন আক্তারের নাম রয়েছে। এদিকে ৬২৫ নম্বরে রয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী হারুনের নাম। এ ছাড়া ২২৪, ২২৫ ও ৩ নম্বরে যথাক্রমে তাঁর মা হামিদা, দুই ভাই ফারুক ও আসাদুল ইসলামের নাম রয়েছে।

অন্যদিকে তালিকার ১৭ নম্বরে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের চাচা আজগর আলী মণ্ডল, ৭ নম্বরে আজগর আলী মণ্ডলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ৫ নম্বরে মেয়ে আফিফা আক্তারের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে তালিকার ১৮৪ নম্বরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আতোয়ার মিয়ার স্ত্রী মোরশেদা বেগমের নাম রয়েছে। তা ছাড়া ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য লাইলী বেগমের ছেলে-মেয়েসহ একাধিক অত্মীয়-স্বজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ৬৭০ নম্বরে রসুলপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান নিজেই দিনমজুর হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, তালিকায় ২৯৬ ও ৫৯১ নম্বরে দুবার রয়েছে তাঁর শ্বশুর আতোয়ারের নাম।

পুরো তালিকাই এই রকমভাবে নানা কৌশলে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সহায়তায় লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী হারুন বলেন, ‘গরিব হওয়ায় এই তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।’ রসুলপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান বলেন, ‘আমি ও আমার আত্মীয়-স্বজনরা দরিদ্র। তাই তাঁদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল করিম দুলা বলেন, ‘সহায়তা পাওয়ার যোগ্যরাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এখানে আত্মীয়-স্বজনের পরিচয় মুখ্য নয়। তাঁরা দরিদ্র বলেই তালিকায় এসেছেন।’ সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, ‘এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য