kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

যশোরে সক্রিয় ডলার প্রতারক

‘মহাজন’ নিয়ন্ত্রণ করেন পুরো চক্র

যশোর অফিস   

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঠ্যাস, বলদা, ফেরিওয়ালা, দোস ও মহাজন—এগুলো হলো ডলার প্রতারকচক্রের সদস্যদের দায়িত্ব অনুযায়ী পদবির সাংকেতিক নাম। প্রতারণার জন্য প্রথমে তাঁরা ‘শিকার’ বাছাই করেন। প্রতারকরা ‘শিকার’কে খ্যাত বলেন। খ্যাত বাছাইয়ের পর তাঁরা কৌশলে লোভের জাল ছড়ান। সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে এই ডলার প্রতারকচক্র।

‘শিকার’ ধরার প্রধান কাজ করে ঠ্যাস। এ কারণে ঠ্যাস পায় প্রতারণার টাকার চার ভাগের এক ভাগ। বলদা আর ফেরিওয়ালা মিলে পায় এক ভাগ। বাকি দুই ভাগ থেকে দোসদের কিছু দিয়ে খরচ বাবদ ও নিজের অংশ বাবদ বাকি টাকা নেন মহাজন। মহাজনদের অধীনে এমন একাধিক প্রতারকচক্র কাজ করে। মহাজনই নিয়ন্ত্রণ করেন পুরো চক্র। বিভিন্ন এলাকায় ‘শিকার’ খোঁজা ও প্রতারণার সময় প্রতারকদের সেখানে থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ এই মহাজনই বহন করেন। প্রতি মহাজনের অধীনে এই রকম কয়েকটি প্রতারকচক্র থাকে। মহাজনই প্রতারণার টাকা সবার মধ্যে বণ্টন করেন। দায়িত্ব অনুযায়ী ভাগ হয় টাকা।

সম্প্রতি যশোরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল বাশারের ১০ লাখ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে যায় ডলার প্রতারকচক্র। এ ব্যাপারে মামলা হলে যশোর ডিবি পুলিশ গত রবিবার রাতে গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর থেকে এই চক্রের তিনজনকে আটক করে। তাঁরা হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার চৌধুরীকান্দা সদরদী গ্রামের জমির শেখের ছেলে কামাল শেখ, একই গ্রামের জলিল মাতুব্বরের ছেলে সেন্টু মাতুব্বর এবং গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর থানার লোহাইর গ্রামের নূরউদ্দিন শেখের (মৃত) ছেলে ফরিদ শেখ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার ৬০ হাজার ৫০০ টাকা ও প্রতারণার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ডিবি পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণার ওই সব কৌশল ও সাংকেতিক নামগুলো জানতে পারে।

যশোর ডিবি পুলিশের আইটি শাখার এসআই মফিজুল ইসলামের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে এই চক্রের অবস্থান শনাক্ত করেন তিনি। পরে অভিযান চালিয়ে ওই সব প্রতারকদের আটক করা হয়। তিনি জানান, এলাকা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত ডলার প্রতারকচক্র। ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই চক্রকে অনেকে বলে ওকে পার্টি বা ওয়েলকাম পার্টি। ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ এলাকায় তারা চুট ব্যবসায়ী নামে পরিচিত। গোপালগঞ্জের মকসুদপুরের বনগ্রাম, লোহাইরসহ কয়েকটি গ্রামের অনেকে এই ব্যবসাকে বৈধ ব্যবসার মতো দেখে এবং লোহাইরের অনেক মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা