kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

টোলের নামে চাঁদা আদায়

ঠাকুরগাঁওয়ে চাঁদা না দিলে শ্রমিকদের ওপর চলে শারীরিক নির্যাতন

পার্থ সারথী দাস, ঠাকুরগাঁও   

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টোলের নামে চাঁদা আদায়

ঠাকুরগাঁও সদরে আর্ট গ্যালারি ও রুহিয়া মোড়ে টোলের নামে চলছে ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ে যুবলীগের একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে টোল আদায়ের নামে অটোরিকশা ও ট্রাক থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে শ্রমিকরা। চাঁদাবাজি বন্ধে শ্রমিকরা একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেওয়া হয়নি।

সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১০টি পয়েন্টে লাঠি হাতে ট্রাক ও অটোবাইক আটকিয়ে টোল আদায়ের নামে চলছে চাঁদাবাজি। শুধু ঠাকুরগাঁও পৌর শহরেই নয়, জেলার পাঁচ উপজেলার সব সড়কেই এখন বিভিন্ন সংগঠনের নামে প্রকাশ্যে চলছে এসব ব্যবসা। আর এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। সদর উপজেলার পৌর শহরে যুবলীগ ও শ্রমিকদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সমাজকল্যাণসহ বিভিন্ন তহবিলের নামে চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও হয়রানি করে আসছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, একজন শ্রমিক সারা দিন গাড়ি চালিয়ে যা উপার্জন করে তা থেকে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আর মালিকের পাওনা শোধ করে আর তেমন কিছু টিকে না। এ অবস্থায় সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদা দিতে না চাইলে তাদের ওপর চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। কিন্তু ক্ষমতার দাপটের কারণে তাদের কিছুই বলা যায় না।

শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুব আলম রুবেল জানান, অটোপ্রতি গড়ে প্রতিদিন ১০ টাকা হারে পাঁচ হাজার চালকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা ওঠানো হয়, যা মাসে ১৫ লাখ টাকা আর বছরে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা দাঁড়ায়। অন্যদিকে প্রতিটি ট্রাক ও ট্যাংক লরির কাছ থেকে আদায় করা হয় ৫০ টাকা করে। শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের এসব চাঁদার টাকা ভোগ করে ক্ষমতাসীন দলের একটি চক্র।

ভুক্তভোগী শ্রমিক বেলাল হোসেন জানান, করোনার জন্য প্রায় দুই মাস রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারেননি তাঁরা। লকডাউন শিথিল হলে রাস্তায় অটো চালাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহাই নেই তাঁদের। প্রতিদিন মালিকের জমা খরচ ও নিজের সংসারের খরচ ওঠানোই কষ্টের বিষয়। সেখানে সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে লাঠি হাতে জোর করে চাঁদা আদায় চলছে। সব দেখেও চুপচাপ থাকছে পুলিশ প্রশাসন।

শ্রমিক আনোয়ার হোসেন জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের শ্রমিকরা এখন চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি। রাস্তায় গাড়ি নামালেই দিতে হচ্ছে চাঁদা।

জেলা অটোচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম লাবু জানান, চাঁদা তোলা বন্ধের দাবিতে সব শ্রমিকরা অনেক দিন ধরে আন্দোলন করছে। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করছে না।

ট্রাক ও অটো টোল আদায়কারী মোহাম্মদ বিপ্লব বলেন, ‘আমি শুধু টোল আদায়কারী হিসেবে কাজ করি। স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর নির্দেশে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। গোবিন্দনগর বিসিক মোড় এলাকার দুটি পয়েন্টের প্রতিদিনের চাঁদার টাকা মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ভাইকে দেওয়া হয়। বাবু ভাই জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সমির দত্তের আওতায় কাজ করেন। এ ছাড়া আরো কয়েকজন নেতা এর সঙ্গে জড়িত।’ এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে পৌর টোল আদায় করা হয়। তবে পৌর এলাকায় অন্য নামে টোল আদায় বা চাঁদাবাজির কথা তিনি শুনেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, কেউ যদি প্রভাব খাটিয়ে বা দলীয় পরিচয় দেখিয়ে চাঁদা তোলে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা