kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

উলিপুর

অনুদান পাননি নন-এমপিওরা

কুড়িগ্রাম ও উলিপুর প্রতিনিধি   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নন-এমপিও শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুদানের টাকা পাননি।

বঞ্চিতরা অভিযোগ করেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রতিকার চেয়ে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, বেতন-ভাতা বঞ্চিত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেক শিক্ষক প্রাইভেট টিউশনি করে কোনো মতে দিনযাপন করতেন। কিন্তু করোনার কারণে টিউশনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের আর্থিক অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়ে। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ‘বিশেষ অনুদান’ খাত থেকে জেলার এক হাজার ৩৫৭ জন শিক্ষক ও ৪৬৮ জন কর্মচারীর জন্য ৭৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এককালীন অনুদান হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষক পাঁচ হাজার টাকা ও কর্মচারীরা দুই হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন। উলিপুর উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ১২৬ জন শিক্ষক ও ৪০ জন কর্মচারীসহ ১৬৬ কর্মচারী এই অনুদান পেয়েছেন। বাকিরা অনুদানের টাকা না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।

মণ্ডলের হাট মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নুরন নবী মিঞা অভিযোগ করেন, দুবার কাগজপত্র দেওয়ার পরেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাঁর দপ্তরের কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে এই দুঃসময়ে সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেন, বাবুরহাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলার রহমান সরকার। এই প্রতিষ্ঠানের আটজন শিক্ষক-কর্মচারী অনুদান বঞ্চিত হয়েছেন।

উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব জানান, কাগজপত্র পাঠানোর পরেও ঢাকা থেকে কিছু শিক্ষক-কর্মচারীর নাম কাটা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের ছুটির কারণে তালিকা পাঠাতে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, সময়মতো আবেদন না করায় অনেকে অনুদান পাননি। তবে এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানের গাফিলতি থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, ২০০৯-এর তালিকা অনুযায়ী অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর পরও কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা