kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

ফুটেজে ছাত্রলীগ নেতা!

নরসিংদীতে সিসাভর্তি ট্রাক ছিনতাই

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটেজে ছাত্রলীগ নেতা!

নরসিংদীতে সিসাভর্তি ট্রাক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল ইসলাম রিমন ও নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল আলম একমি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছিনতাইয়ের সিসিটিভির ফুটেজ ও অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ায় এই অভিযোগ জোরালো হয়েছে।

এই ঘটনায় ব্যবসায়ী মামুন সরকারের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তা ছাড়া পুলিশ সিসাভর্তি ট্রাক উদ্ধার এবং একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন ব্যবসায়ী মামুন সরকার নরসিংদীর চরহাজীপুর এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠান থ্রি ব্রাদার্স ব্যাটারি সার্ভিস কর্নার থেকে সিসাভর্তি ট্রাক নিয়ে ময়মনসিংহ শহরে যাচ্ছিলেন। ওই ট্রাকে থাকা ১০ টন সিসার দাম আনুমানিক ২২ লাখ টাকা। যাওয়ার পথে সদর উপজেলার পুরানপাড়া এলাকায় একটি প্রাইভেট কার ও দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে সাত-আটজন তাঁদের গতিরোধ করে। পরে ব্যবসায়ী মামুন, ট্রাকচালক আসাদ মিয়া ও হেলপার অলিউল্লাহকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রাক থেকে নামিয়ে প্রাইভেট কারে তুলে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সিসাভর্তি ট্রাক ও তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় ঘোড়াদিয়া এলাকায় একটি কারখানার ভেতর। সেখানে নিয়ে ব্যবসায়ী মামুনের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পড়লে অপহরণকারীরা সিসাভর্তি ট্রাক, প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী মামুন সরকার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ প্রাইভেট কারের চালক রোমান মিয়া ও কারখানার দারোয়ান সোবহান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোমান মিয়া ওই ঘটনায় অজানা এক বড় ভাই ছাড়াও ওয়াজেদ সরকার, রাসেল, রায়হান ও উৎপল নামের কয়েকজনের জড়িত থাকার কথা জানিয়ে আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সৈয়দ রুহুল আমিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে অপহরণে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাইভেট কারের চালক রোমান মিয়া ও কারখানার দারোয়ান সোবহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোমান মিয়া আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে মোটরসাইকেলের মালিক ওয়াজেদ সরকার, আশিক ও মনির নামসহ অনেকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সেভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  

অভিযুক্ত রবিউল আলম একমির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আহসানুল ইসলাম রিমন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনি কখনোই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য শত্রুরা ষড়যন্ত্র করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা