kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

কোরবানির পশুর হাট
বিধি লঙ্ঘন

ভাঙ্গুড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই

উপস্থিতি বেশি বেচাকেনা কম

মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাঙ্গুড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলে পশু কেনাবেচা। ছবিটি গত শনিবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিগত বছরগুলোতে কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে হাটে পশু বেচাকেনায় ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড় হতো। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগে থেকেই পশু কেনাবেচার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এতে সচেতন ক্রেতারা সাপ্তাহিক হাটে পশু কিনতে এক মাস আগে থেকেই ভিড় করতে শুরু করছেন। তবে হাটে আসা বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন উপজেলার সচেতন বাসিন্দারা। গত শনিবার পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরত্নগর পশুহাটে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

শরত্নগর হাট জেলার অন্যতম বৃহৎ সাপ্তাহিক পশুহাট। সাপ্তাহিক এই হাটের এক দিনে সহস্রাধিক পশু কেনাবেচা হয়। আর কোরবানির ঈদের আগে পশু কেনাবেচা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

শনিবার শরত্নগর পশুহাটে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা ও নাটোর থেকে গরু ব্যবসায়ীরা সহস্রাধিক গরু পশুহাটে বিক্রি করতে এনেছেন। এ ছাড়া ভাঙ্গুড়া, পাশের ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলা থেকে খামারিরা নিজেদের লালন-পালন করা গরু ও ছাগল নিয়ে হাটে এসেছেন। বড়াল ব্রিজ রেলস্টেশনের পাশে উন্মুক্ত মাঠে সারিবদ্ধ করে গরু রাখা হয়েছে। একেকজন ব্যবসায়ী ১০ থেকে ২০টি করে গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। আর খামারিরা মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে উন্মুক্তভাবে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে একটি বা দুটি গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে ক্রেতারা খামারিদের গরু কেনার প্রতি ঝুঁকছেন বেশি। এ বছর হাটে কোনো ভারতীয় গরু দেখা যায়নি।

এদিকে হাটে আসা সচেতন ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করলেও অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল না। ক্রেতাদের ভিড়ে সামাজিক দূরত্ব মানার মতো অবস্থা ছিল না। এ সময় হাট কর্তৃপক্ষ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাস্ক ব্যবহার করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাইকে বারবার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতা তা কর্ণপাত না করেই কেনাবেচা করছিলেন।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর কোরবানির ঈদের এক মাস আগেই জমজমাট হাট শুরু হয়েছে। ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের উপজেলা থেকে প্রচুর ক্রেতা কোরবানির জন্য পশু কিনতে এসেছেন। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতির তুলনায় পশু কেনাবেচা কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। অনেক ক্রেতা পশুর দাম জানার জন্য শুধু হাটে এসেছেন। পশুর দাম গত বছরের তুলনায় এবার কম। আকার ভেদে প্রতিটি গরু গত বছরের চেয়ে পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে দর-কষাকষি করে দাম নাগালের মধ্যে এলেই কোরবানির পশু কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। এতে দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা খুশি হলেও বিক্রেতারা লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন।

হাটে গরু কিনতে আসা পাশের ফরিদপুর উপজেলার বেরহাউলিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগের দুই হাটে লোকজনের প্রচণ্ড ভিড় হয়। তাই এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই গরু কেনার জন্য হাটে এসেছি। অন্য বছরের তুলনায় গরুর দাম এবার কম। তা ছাড়া গরুর আমদানিও বেশ ভালো। এতে গরু কিনতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।’

হাটের ইজারাদার ফজলে আজিম বলেন, হাটে আসা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সব সময় মাইকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই তা মানছে না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, হাটে অনেক লোকের সমাগম। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বাধ্য করানো সম্ভব নয়। তাই মাইকে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হচ্ছে। এর পরও তা না মানায় আগামীতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা