kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

মেহেরপুর

ধান-চাল দিতে অনীহা কৃষকদের

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেহেরপুরে ধান-চাল সংগ্রহের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। সরকারি মূল্যের চেয়ে খোলাবাজারে মূল্য বেশি থাকায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান-চাল সরবরাহে অনীহা দেখাচ্ছেন কৃষক ও মিল মালিকরা। এ বিষয়ে নোটিশ দিয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পুনরায় সময় বাড়ানো হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা দেখছে না খাদ্য অফিস। লটারিতে নাম ওঠা কৃষক ব্যতীত তালিকাভুক্ত সব কৃষক ধান বিক্রি করতে পারবেন—এমন প্রস্তাবেও কোনো সাড়া মিলছে না।

জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুরে চাল কেনার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৪৩৮ টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৬৫ টন, গাংনীতে ৫৩৭ টন ও মুজিবনগর থেকে ২৩৬ টন চাল কেনার কথা।

তবে এখনো পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার সিকি ভাগও অর্জিত হয়নি। জেলায় চাল সরবরাহের জন্য সরকারি লাইসেন্সভুক্ত ১৯ জন মিলার রয়েছেন। তাঁরাই প্রতি বছর সরকারি চাল সরবরাহ করে থাকেন। তবে এ বছর নোটিশ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। খোলা বাজারে চালের মূল্য ৪০-৪২ টাকা, কিন্তু সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৩৬ টাকা। প্রতি কেজি চালে প্রায় চার-ছয় টাকা লোকসান হচ্ছে বলে চাল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বেশ কিছু মিল মালিক। তবে চাল সরবরাহে ব্যর্থ হলে তাঁদের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে খাদ্য অফিস।

তাঁদের মধ্যে লোমান রাইস মিলের মালিক আলী কদর বলেন, ‘আমার বরাদ্দ ছিল ১২৩ টন চাল। এখন পর্যন্ত কোনো চাল সরবরাহ করতে পারিনি। খোলা বাজারে চালের দাম অনেক বেশি। এ ছাড়া ধানও কিনতে হচ্ছে প্রায় ২৬ টাকা কেজি দরে। তাই এবার চাল সরবরাহে বিরাট লোকসানের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তবে পুনর্নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই সব চাল সরবরাহ করে দেব বলে আশা করছি।’ খুশি রাইচ মিলের মালিক আজিরুল ইসলাম বলেন, ‘লোকসান হলেও লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে বরাদ্দের সব চাল সরবরাহ করব।’ আব্বাস রাইস মিলের মালিক আব্বাস আলী বলেন, ‘আমার বরাদ্দ ৭০ টন। এখনো পর্যন্ত কোনো চাল দিতে পারিনি। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ১০-১৫ টন চাল  দেব।’

বিগত বছরগুলোতে ধান বিক্রির জন্য কৃষকের হুড়োহুড়ি দেখা গেলেও এ বছরের চিত্র ভিন্ন। এ বছর তিন হাজার ১৩০ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে কেন রাজি হচ্ছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দাম আর খোলা বাজারের দাম প্রায় সমান। তাই ঝামেলায় না গিয়ে বাড়ির কাছে আড়তদারের মাধ্যমে ধান বিক্রি করছি।’

জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সব মিল মালিকদের চাল সরবরাহের জন্য নোটিশ দিয়েছি। তাঁরা অবগত করেছেন, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাল সরবরাহ করবেন। যদি এতে ব্যর্থ হয় তবে মিলারদের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত হবে। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা