kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

সুরক্ষার নামে শিকল

শাহানুর আলম উজ্জ্বল, চৌগাছা (যশোর)   

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুরক্ষার নামে শিকল

যশোরের চৌগাছায় শিকলে বন্দি শিশু আঁখি। ছবি : কালের কণ্ঠ

যে বয়সে মাতৃস্নেহের আঁচলে বেড়ে ওঠার কথা, যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, দুরন্তপনায় মেতে ওঠার কথা, খেলাধুলা করার কথা, সেই বয়সটি এখন শিকলে বন্দি।

যশোরের চৌগাছার জামিরা গ্রামে আঁখি (৭) ঠিকমতো খেতে পায় না। তাই খাবারের জন্য এদিক-ওদিক চলে যায়। এই অবস্থায় অসুস্থ দাদা তার শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে ঘরে শিকলবন্দি করে রেখেছেন। ফলে ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে ফুটফুটে শিশুটি।

গতকাল জামিরা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মাটি ও বেড়া দিয়ে তৈরি ছোট্ট ঘরে নির্বাকভাবে বসে আছে আঁখি। একটি খুঁটির সঙ্গে তার বাঁ পা শিকল দিয়ে বাঁধা। গায়ে কোনো জামা নেই। মলিন একটি প্যান্ট পরা। মন খারাপ করে বসে আছে। কোমল চোখ দুটি ছলছল। এ সময় বিমর্ষ ও অসুস্থ দেখাচ্ছিল শিশুটিকে।

আশপাশের লোকজন জানায়, দরিদ্র আশরাফুল ইসলাম ও ফুলবানুর মেয়ে আঁখি। তাঁর বয়স যখন সাত মাস তখন মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বর্তমানে মা অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন। বাবা আশরাফুল ইসলাম রিকশা চালান। জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন গ্রাম থেকে যশোর শহরে চলে যান। দিন শেষে রাতে বাড়ি ফেরেন। ছোটবেলা থেকে দাদা-দাদি আঁখিকে দেখাশোনা করতেন। কিন্তু দাদি পক্ষাঘাতে বিছানায় পড়ে আছেন। দাদাও খুব অসুস্থ।

জানতে চাইলে বৃদ্ধ দাদা চোখের পানি ফেলে বলেন, ‘ও এখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ঠিকমতো খাবার দিতে পারি না। তাই বাড়ির বাইরে গিয়ে লোকের কাছে খাবার চায়। ওর ক্ষতির ভয়ে আমরা বাধ্য হয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখি। ও এখন ধীরে ধীরে পাগল হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন কি করব? ওর দায়িত্ব নেওয়ার মতো আমার ক্ষমতা নেই।’

গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অভাবের কারণেই সে বাড়ি থেকে বের হয়ে চেয়েচিন্তে খাবার খায়। মূলত ওর দেখাশোনার কোনো লোক নেই।’

প্রতিবেশী ইসলাম উদ্দিন জানান, আঁখির দাদি পঙ্গু। দাদা অসুস্থ। বাবাও কোনো খোঁজখবর নেয় না। ওর দ্রুত চিকিৎসা হওয়া দরকার। এভাবে শিকলে বন্দি থাকলে ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে।

এ বিষয়ে ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘শিকল দিয়ে শিশুকে বেঁধে রাখা অমানবিক। বর্তমান সভ্য সমাজে বসবাস করে যদি শিশুসহ যেকোনো মানুষকে শিকলে বন্দি থাকতে হয়, তাহলে এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। এমন ঘটনা ঘটতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

মন্তব্য