kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

উেকাচ ছাড়া চাল নেবেন না কর্মকর্তা

ঝালকাঠিতে চার কোটি টাকার চাল নিয়ে বিপাকে চালকল মালিক

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উেকাচ ছাড়া চাল নেবেন না কর্মকর্তা

ঝালকাঠির নলছিটিতে সরকারের বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমের চাল মিল মালিক ভর্তুকি দিয়ে দিতে চাইলেও তা নিচ্ছেন না খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা। মোটা অঙ্কের উেকাচ না দেওয়ার কারণে মানসম্মত চালও গুদামে ঢুকতে দিচ্ছেন না তিনি। এতে চার কোটি টাকার চাল প্রস্তুত করে বিপাকে পড়েছেন সুগন্ধা অটো রাইস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফুড প্রসেসিং কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অটো রাইসমিলের পক্ষ থেকে খাদ্য বিভাগের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিল্লুর রহমান খান।

অভিযোগে জানা যায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা খাদ্য বিভাগ ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার ১৯১ টন চাল সংগ্রহের জন্য উন্নতমানের চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সুগন্ধা অটো রাইস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফুড প্রসেসিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গত ৩০ এপ্রিল চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, বোরো ধান কিনে চাল উৎপাদন শুরু করে মিল কর্তৃপক্ষ। প্রথম দফায় চাল দিতে গেলে নলছিটি খাদ্য পরিদর্শক (ওসিএলএসডি) এইচ এম আনোয়ার হোসেন গুদামে চাল প্রবেশে বাধা দেন। তিনি মিল কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ২৪ জুন ৫১ টন চাল গুদামে নেওয়া হয়। বাকি চাল প্রস্তুত করে পাঠানো হলে আবারও ঘুষ দাবি করে চাল গুদামে প্রবেশ করতে দেননি ওই কর্মকর্তা। গুদাম থেকেই চাল মিলে ফেরত নিয়ে আসতে বাধ্য হন মিল মালিক।

এ অবস্থায় সরকারের সঙ্গে কেজিপ্রতি চার টাকা ভর্তুকি দেওয়ার চুক্তি করেন মিল মালিক। কিন্তু চুক্তি করেও লাভ হচ্ছে না। উেকাচ ছাড়া চাল নিতে রাজি নন গুদাম কর্মকর্তা।

এদিকে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে খাদ্য বিভাগ চাল না নিলে চার কোটি ১০ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হবে জেলার একমাত্র অটো রাইসমিলটি। এ ঘটনায় গত ২৮ জুন বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। ওই কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরের দিন নলছিটি খাদ্যগুদামে তদন্তে আসেন আঞ্চলিক কার্যালয়ের কেমিস্ট বোরহান উদ্দিন। তাঁর সামনে বসেই নলছিটির খাদ্য পরিদর্শক (ওসিএলএসডি) আনোয়ার হোসেন সুগন্ধা অটো রাইসমিলের ব্যবস্থাপক রেজাউল করিমের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ব্যবস্থাপককে গুদাম এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে আরো একটি অভিযোগ গত ৩০ জুন বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে দেওয়া হয়।

মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিল্লুর রহমান খান বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা বাস্তবায়ন না করতে পারলে সিকিউরিটি মানি আটকে যাচ্ছে। এমনকি আমাদের প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্তও হতে পারে। আর এসব কিছুর জন্য দায়ী নলছিটি উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক এইচ এম আনোয়ার হোসেন। আমরা ৩০০ টন চাল প্রস্তুত করে মিলে রেখেছি, বাকিগুলো প্রস্তুতের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে এখনো এক হাজার ১৪০ টন চাল খাদ্যগুদামে দিতে হবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খাদ্য পরিদর্শক এইচ এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চালের মান ভালো না থাকায় গুদামে উঠানো হয়নি। মানসম্মত চাল হলে অবশ্যই তা নেওয়া হবে।’

ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস ছালাম বলেন, ‘নলছিটি গুদামে কেন চাল নেওয়া হচ্ছে না—এটা আমার জানা নেই। মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধান করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা