kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

স্বামী কারাবন্দি স্ত্রী পানিবন্দি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বামী কারাবন্দি স্ত্রী পানিবন্দি

কুড়িগ্রাম সদরের চরনামা ভেলাকোপার বাসিন্দা সাফি বেগম তিন সন্তান নিয়ে ছয় দিন ধরে পানিবন্দি। ঘরের ভেতর চৌকি উঁচু করে ঝুঁকি নিয়ে কোনো মতে দিন যাপন করছেন তিনি। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বামী শামসুল আলম মাদক মামলার আসামি হয়ে ছয় মাস ধরে কারাবন্দি। দিনমজুরি করে তিন সন্তানকে নিয়ে কোনো মতে দিনযাপন করছিলেন স্ত্রী সাফি বেগম। কিন্তু বন্যায় ঘরবাড়ি ডুবে থাকায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি তিনি। শেষ সম্বল ঘরে ১০ কেজি চাল আর পাঁচ কেজি আলু ছিল। তাও শেষ। সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা দূরের কথা—কেউ খবর পর্যন্ত নেয়নি। এখন কী করে পানিবন্দি জীবন কাটবে—তাই নিয়ে শঙ্কা ভর করছে গৃহবধূ সাফি বেগমের মনে।

কুড়িগ্রাম সদর এলাকার চরনামা ভেলাকোপায় বাস করেন সাফি। একমাত্র টিনের ঘরে বর্তমানে হাঁটুপানি। চৌকি উঁচু করে তার ওপর বাস করছেন সন্তানদের নিয়ে। রান্নাবান্না চৌকির ওপরই। রাত জেগে পাহারা দিতে হয়, ঘুমের ঘোরে সন্তানরা পানিতে পড়ে যায় কি না। এভাবে কতক্ষণ থাকা যায়? দিনের বেলা সন্তানরা হুটহাট পানিতে নামছে। আর এতে বাড়ছে অসুখ-বিসুখের শঙ্কা।

বাড়ির পাশ দিয়ে নৌকা নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়িতে কেউ আছেন কি না, আওয়াজ দিতেই এক সন্তানকে নিয়ে কোমরপানি ভেঙে এগিয়ে আসেন সাফি। বলেন তাঁর বৃত্তান্ত।

সাফি জানান, তাঁর স্বামী রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করতেন। লোভে পড়ে ইয়াবা পাচার করতে গিয়েছিলেন। নাগেশ্বরীতে ধরা পড়েন। এরপর কারাবাস। ছয় মাস ধরে আছেন সেখানে। জামিনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে উকিল ধরতে পারেননি। সংসারে তিন সন্তান শাকিল (৮), রুমি (৬) ও সুমি (৫) আছে। সংসারের হাল ধরতে তাই দিনমজুরির কাজ করতেন। মজুরি পেতেন ২৫০-৩০০ টাকা। সব দিন কাজ মিলত না। এর পরও কায়ক্লেশে টানছিলেন সংসারের ঘানি। কিন্তু বন্যা এসে সব তছনছ করে দিয়েছে। ছয় দিন ধরে হাতে কোনো কাজ নেই। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। গ্রামে শত শত পরিবার পানিবন্দি। নৌকা আর কলাগাছের ভেলা ছাড়া কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। এ অবস্থায় সন্তানদের ফেলে কোথাও যেতেও পারছেন না সাফি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা