kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

সুপারিশে মেলে চিকিৎসাসেবা

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুপারিশে মেলে চিকিৎসাসেবা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, করোনা ইউনিটে সারা দিনেও চিকিৎসকের দেখা মেলে না। নার্সদের ডাকাডাকি করেও পাওয়া যায় না। ফলে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। ফলে বাধ্য হয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সুপারিশ করিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি হন এক সাংস্কৃতিককর্মী। ভর্তির পরে নার্সরা এসে অক্সিজেন দিয়ে চলে যান। এর পরে কোনো চিকিৎসক কিংবা নার্সের দেখা পাননি তিনি। গত শনিবার সকালে শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় ছটফট করছিলেন। খবর পেয়ে এক গণমাধ্যমকর্মী বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালককে বলায় চিকিৎসক গিয়ে দেখে আসেন তাঁকে। এর আগে ২১ জুন বিকেল গৌরনদী উপজেলার একই পরিবারের চার সদস্য ভর্তি হন হাসপাতালে। পরিবারের গৃহকর্তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে আইসিইউয়ে রাখা হয়। ভর্তির পর থেকে তিন দিন কোনো চিকিৎসক দেখেননি তাঁকে। নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যরা এক গণমাধ্যমকর্মীকে বিষয়টি জানান। পরে সুপারিশের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা পান তিনি। এর আগে গত ১৯ জুন বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এমদাদ উল্লাহ খান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই দিন সকালে আইসিইউয়ে ডা. এমদাদ উল্লাহর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর চিকিৎসক সহধর্মিণী বারবার ফোন দিচ্ছিলেন দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল ইসলামকে। ডা. এমদাদ উল্লাহ মারা যান বিকেল সাড়ে ৫টায়। মারা যাওয়ার চার-পাঁচ মিনিট আগে এমদাদ উল্লাহকে দেখতে যান ডা. নাজমুল। এ ঘটনায় করোনা চিকিৎসা নিয়ে খোদ চিকিৎসকদের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

করোনা ওয়ার্ডের রোগীরা জানায়, তৃতীয় তলায় করোনা রোগীদের ওয়ার্ডের মধ্যেই চিকিৎসকদের কক্ষ। কিন্তু সেই কক্ষের দরজা সব সময় বন্ধ থাকে। চিকিৎসকরা বের হয়ে রোগী দেখেন না। রোগী কিংবা স্বজনরা ফাইল নিয়ে তাঁদের কাছে গেলেও বিরক্তবোধ করেন। সমস্যার কথা ঠিকমতো না শুনেই বিদায় দেন। শুধু সকাল ১১টা এবং সন্ধ্যার পরে দরজার ওপার থেকে চিকিৎসকরা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেন। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কোনো রোগীর কাছে তাত্ক্ষণিক তাঁদের পাওয়া যায় না। তবে উচ্চ পর্যায় থেকে তদবির কিংবা সুপারিশ এলে চিকিৎসকরা ছুটে যান রোগীর কাছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত মে মাস থেকে হাসপাতালের নির্মাণাধীন নতুন ভবনটি করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে ২০০ শয্যা রয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই করোনা ওয়ার্ডে ১২৮ জন ব্যক্তি চিকিৎসাধীন ছিল। এদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত ৭০ জন। নমুনা পরীক্ষার পর রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে ২৮ জন। তা ছাড়া হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৬৪ জন। নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে ২৪৯ জনের। ইউনিটে মারা গেছে ৯৫ জন। তাদের মধ্যে আক্রান্ত রোগী ছিল ৩৭ জন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের সব জেলা ও উপজেলা থেকে করোনা আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী এখানে ভর্তি হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালে রয়েছে জনবল সংকট। তা ছাড়া রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে ১৫ জন চিকিৎসকসহ ৭৬ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা