kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

২৫ দিনেও মিলছে না নমুনা পরীক্ষার ফল

জয়পুরহাটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। নমুনা সংগ্রহের পর রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কখনো কখনো তা তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে শঙ্কা ও ঝুঁকি দুটিই বাড়ছে। আবার বিলম্বে রিপোর্ট আসায় এর ফলাফল নিয়েও সন্দেহ কাজ করছে জনমনে। শুরুতে জেলা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হতো রাজশাহী ও বগুড়ার পিসিআর ল্যাবে। এখন পরীক্ষার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেন্স সেন্টারে নমুনা পাঠানো হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪২২ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের জয়পুরহাট শাখার ১২ জন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, কালাই থানা পুলিশের ইনচার্জ, গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা ও ক্ষেতলাল হাসপাতালের ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী। আক্রান্তদের মধ্যে ১৯৮ জন সুস্থ হয়েছেন। তবে করোনায় এ জেলায় এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটে প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান মেলে গত ১৬ এপ্রিল। এরপর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪২২ জন। শুরুর দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে জেলা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হতো। এর কয়েক দিন পর বগুড়ার শজিমেক হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবেও নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। ওই সময় এক দিন পর পর নমুনার ফলাফল পাওয়ায় জেলায় করোনা রোগী দ্রুত শনাক্ত হয়। পরে বগুড়া ও রাজশাহীতে পাঠানো ১৫৭টি নমুনার কোনো ফলাফল না পেয়ে গত মে মাস থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ঢাকার ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেন্স সেন্টারে নমুনা পাঠানো শুরু করে। প্রথম দিকে নিয়মিত ফলাফল পাওয়া গেলেও গত জুন মাস থেকে বিলম্বে ফলাফল আসতে শুরু করে। নমুনা পাঠানোর ১০ থেকে ১৫ দিন পরও ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গত ৮ জুন ঢাকায় পাঠানো ৭০টি নমুনার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।

জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান রনি বলেন, বর্তমানে নমুনা পাঠানোর ১০ দিনের আগে ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

কালাই পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সাজ্জাদুল বারি কাজল বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে শুধু কালাই উপজেলা থেকে ভ্রাম্যমাণ বুথ স্থাপন করে প্রতিদিন ১০০-এর বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু বিলম্বের কারণে এখন ৮-১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জয়পুরহাট পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী লেবু বলেন, শুধু বিলম্ব নয়, করোনা আক্রান্তদেরও কোনো খোঁজখবর রাখছে না প্রশাসন। গত এক সপ্তাহ থেকে করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। 

জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া নমুনার ফলাফল বিলম্বে পাওয়ার কারণে নানা জটিলতা সৃষ্টির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘জটের কারণে নমুনার ফলাফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এটি সাময়িক সমস্যা। খুব শিগগিরই এই জটিলতা কাটানোর চেষ্টা চলছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা