kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

দাপুটে আ. লীগ নেতা

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দাপুটে আ. লীগ নেতা

দুলাল মিয়া

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য দুলাল মিয়া। তিনি ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি খাসজমি দখল, ফসলি জমির মাটি কাটা, আত্মীয়দের মাধ্যমে মাদক কারবার—এসব কাজ করেন।

মেটংঘর গ্রামের আলী আকবর খান, জব্বার খান, করিম খান, সিরাজ খান, জহির খান, হাফিজ খান ও রাখাল চন্দ্র দাস জানান, গত ২২ এপ্রিল মেটংঘর মাঠে ঘুড়ি ওড়াতে যান আলী আকবর খানের ছেলে উমর খান (২১)। কাটাকাটির খেলায় উমর খানের ঘুড়িটি পাশের দুলাল মেম্বারের প্রজেক্টের ভেতরে পড়ে যায়। ওইখান থেকে ঘুড়ি আনতে গেলে মেম্বারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেম্বার ও তাঁর দলবল তাঁকে পিটিয়ে আহত করে। রাখাল চন্দ্রসহ স্থানীয়রা তাঁকে কুমিল্লার ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে নেওয়ার অপরাধে গত ২০ জুন ভোরে রাখালের বাড়িতে গিয়ে হামলা করেন দুলাল ও তাঁর দলবল। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন মেম্বার ও তাঁর দলবল। ঘটনার সময় হামলাকারীরা বসতবাড়ি ও দোকানঘর ভাঙচুর ও ব্যাপক ক্ষতি করে। একই সময়ে দোকানের বাক্স থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তখন তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন মেম্বার। যার ফলে আতঙ্কে রাখাল চন্দ্র দাসসহ সাত পরিবার ভয়ে গ্রাম ছাড়ে এবং রক্তাক্ত রাখালকে পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি মুঠোফোনে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসিকে জানালে তিনি গ্রামে এসে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। ওসির কথামতো গত ২৪ জুন দুলাল মেম্বারসহ ১২ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৮-২০ জনের বিরুদ্ধে উমর খান থানায় একটি অভিযোগ করেন। এদিকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তরা হুমকি দিলে আতঙ্কে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না তারা। এ ঘটনায় গত ২৬ জুন এলাকায় পুলিশ এলে স্থানীয়রা ভয়ে কেউ পুলিশের কাছে মুখ খুলছে না। সবার মাঝেই এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে, মেটংঘর বাজারের প্রবেশমুখে রাস্তার দুই পাশে খাসজমি ভরাট করে চারটি দোকানঘর তৈরি করেন দুলাল মেম্বার। মেটংঘর গ্রামের উত্তর মাঠে তিনফসলি জমির মাটি ড্রেজার দিয়ে কেটে বেচেন। তা ছাড়া তাঁর ভাই, ভাতিজা ও খালাতো ভাইদের যোগসাজশে মাদক কারবার করেন। ভাই হাবিব মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে অপকর্মের মামলা।

অভিযুক্ত দুলাল মিয়া বলেন, ‘উমর গ্রামের উচ্ছৃঙ্খল ছেলে। রাখালও ভালো লোক নয়। তাই তাদের মারধর করেছি। মেটংঘর বাজারের প্রবেশমুখে আমার দোকান আছে। তবে বাজারের সব দোকানই খাসজমিতে। আমি ২৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ করি। কয়েকটি দোকান থাকা দোষের কিছু না। আমার দুটি ড্রেজার মেশিন আছে। রাস্তাঘাট তৈরি করতে মাটি লাগে, মাটি পামু কই?’ তবে তিনি ভাই, ভাতিজা ও খালাতো ভাইয়েরা মাদক কারবারে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি (তদন্ত) অমর চন্দ্র দাস অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘গত শুক্রবার তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। যতটুকু জানতে পেরেছি, ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এটা ঘটেছে। ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধান করার দায়িত্ব নিয়েছেন।’ অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা নেওয়া হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সমাধান না হলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।’

মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, ‘ড্রেজিং সম্পূর্ণ অবৈধ। সুতরাং অবৈধ কাজ যিনিই করবেন তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ড্রেজারের বিষয়ে আমরা সোচ্চার আছি। আর খাসজমি দখল করে যদি কেউ দোকান তৈরি করে থাকেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা