kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত অর্ধশত চিকিৎসক-নার্স

রাজশাহীতে স্বাস্থ্যকর্মী সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীতে একের পর এক স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে হাসপাতালে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। বিশেষ করে করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবায় চিকিৎসক ও নার্স পাওয়াই যাচ্ছে না। গত এক মাসে অর্ধশত চিকিৎসক ও নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন বাকি চিকিৎসক-নার্সরাও।

রাজশাহীতে করোনার আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে মিশন হাসপাতালকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে তেমন কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি রোগীদের দেখভালের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগীদের অক্সিজেন দেওয়ার মতোও জনবল পাচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে প্রয়োজনে কখনো কখনো রোগীরা নিজেরাই অক্সিজেন নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে হঠাৎ করে রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরাও ব্যাপকহারে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। রাফা নামের এক চিকিৎসকসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এরই মধ্যে। এমনকি হাসপাতালের কম্পিউটার অপারেটর পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ গত ৩০ জুন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সাত চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে রামেক হাসপাতালের অন্তত অর্ধশতাধিক চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একের পর এক আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র মতে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত রাজশাহীর ২৪ জন চিকিৎসক ও ২৫ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরও করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর বাইরে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারী রয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন।

অন্যদিকে গতকাল সকাল পর্যন্ত রাজশাহীতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭৯ জন। এর মধ্যে রাজশাহী নগরেই আক্রান্ত হয়েছে ৪৫৫ জন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে নমুনা পরীক্ষা শেষে নগরের ৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

এদিকে রাজশাহীতে গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। এর মধ্যে নগরেই মারা গেছে পাঁচজন। এর বাইরে করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুজনের মৃত্যু হচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল সকালে মারা গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ল্যাব সহকারী মাসুদ রানা (৪৫)।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. মাহাবুবুর রহমান খান জানান, দেশের বাজারে অল্প দামে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী আসছে। এগুলোর মান নিয়ে সংশয় রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী প্রদান করেছেন। এগুলোর মান নিয়েও সংশয় রয়েছে। তা ছাড়া দেশের বাজারে যেসব মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করা হচ্ছে—এর বেশির ভাগই নকল। এগুলো ব্যবহার করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যাপকহারে সংক্রমিত হচ্ছে। আবার হাসপাতালে সব রোগীকে একত্রিত করার ফলেও চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণ বাড়ছে। হাসপাতালে রেড, গ্রিন ও ইয়েলো জোন সিস্টেম নেই। এটা করা উচিত মনে করছেন প্রফেসর ডা. মাহাবুবুর রহমান খান।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। কিন্তু একের পর এক চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এতে করে তাঁদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা