kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

সারা দেশে ১৮% ময়মনসিংহে ৯%

বিভাগে করোনায় আক্রান্ত ৩১৬৮ ও মৃত ৩৬ জন

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারা দেশে ১৮% ময়মনসিংহে ৯%

জাতীয় পরিস্থিতির বিবেচনায় ময়মনসিংহ বিভাগে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা সন্তোষজনক। গত মঙ্গলবারের হিসাবে সারা দেশে নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের পরিমাণ ১৮.৯ শতাংশ। সেখানে ময়মনসিংহে মাত্র ৯.২৭ শতাংশ। তবে আগামী দিনের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় কার‌্যালয়ের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত এই বিভাগে করোনায় মৃত ৩৬ জন। আর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ১৬৮ জন। এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ১৬৪ জনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ময়মনসিংহ বিভাগে করোনা আক্রান্তের ঘটনা ঘটে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার পর। একপর‌্যায়ে করোনা শনাক্ত হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে গত দুই সপ্তাহ ধরে গড়ে প্রতিদিন ৭০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ময়মনসিংহ ছাড়া জামালপুরেও এখন পরীক্ষা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, বিভাগে তিন হাজার ১৬৮ জন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ময়মনসিংহের এক হাজার ৮২৯ জন, নেত্রকোনার ৫২০ জন, জামালপুরের ৫৭৩ জন ও শেরপুরের ২৪৬ জন। মৃত ৩৬ জনের মধ্যে ময়মনসিংহের ২১ জন, নেত্রকোনার তিনজন, জামালপুরের ৯ জন ও শেরপুরের তিনজন।

এদিকে জানা গেছে, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৭৬ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর অন্যতম কারণ অনেক রোগী তাদের লক্ষণ গোপন করে এখানে অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে আসে। এমনকি পাশের গাজীপুর জেলা থেকেও অনেকে এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছে। তা ছাড়া নাগরিকদের অসচেতনতাও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। দেখা গেছে, প্রশাসন বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের অনুরোধ করলেও নাগরিকদের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা নেই। এমনকি অনেকে মাস্ক ব্যবহারেও আন্তরিক নয়। এ ছাড়া হাট-বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেউ কেনাকাটা করছে না।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউল আলম বলেন, ‘লোকজন সচেতন না হলে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে লোকজন সচেতন হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।’ ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, সব সময় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক ডা. আবুল কাশেম বলেন, ‘জাতীয় পরিস্থিতির বিবেচনায় ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্তের হার কিছুটা কম। সুস্থতার হারও কিছুটা ভালো। সবাই সচেতন হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা