kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

চট্টগ্রাম

নিরাপত্তাঝুঁকিতে করোনা রিপোর্ট

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরাপত্তাঝুঁকিতে করোনা রিপোর্ট

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সুরক্ষার কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকায় যে কেউ অনলাইন থেকে তালিকা নিয়ে অপব্যবহারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজ (বিআইটিআইডি) ল্যাবরেটরি প্রধান এই আশঙ্কার কথা স্বীকারও করছেন।

ঘটনার সূত্রপাত চট্টগ্রামের একটি উপজেলার প্রথম শ্রেণির এক কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর করোনা পরীক্ষা নিয়ে। গত ১৪ জুন তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। ১৫ জুন বিআইটিআইডির দেওয়া রিপোর্টে ওই কর্মকর্তার স্ত্রীর পজিটিভ লেখা হয়। কিন্ত ১৬ জুন মধ্যরাতে ওই কর্মকর্তা তাঁর ফেসবুক আইডিতে লেখেন—উনি এবং ওনার স্ত্রীর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এ ঘটনায় সিভিল সার্জন অফিস ও বিআইটিআইডি কার্যালয় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস বলছে, এটা বিআইটিআইডি পরিবর্তন করেছে। আবার বিআইটিআইডি বলছে, এটা সিভিল সার্জন অফিস থেকে পরিবর্তন করা হয়েছে।

পরে আবার সিভিল সার্জন বলছেন, বিআইটিআইডি থেকে সংশোধনী দেওয়া হয়েছে। একই বিষয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন বলছেন, এখানে কোনো রহস্য রয়েছে। তবে প্রথম যে রিপোর্টের তালিকা পাঠানো হয়েছে তা সঠিক। দ্বিতীয় তালিকাটি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বিআইটিআইডির তালিকায় যে স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে নমুনা সংগ্রহের কোনো কেন্দ্র বা বুথ রয়েছে বলে তাঁর জানা নেই।

ডেপুটি সিভিল সার্জনের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেছে একই তালিকায় থাকা একজন চিকিৎসকের বক্তব্যে। এই চিকিৎসক একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই চিকিৎসক জানান, তিনি নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন বিআইটিআইডি কেন্দ্রে গিয়ে। কারণ তাঁর বাসার আশপাশে কোনো নমুনা সংগ্রহকেন্দ্র নেই। 

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বির কার্যালয়ে গেলে তিনি ১৫ জুন বিআইটিআইডির পাঠানো দুটি রিপোর্ট দেখান। এর মধ্যে একটি সংশোধন করা বলে তিনি জানান।

পরে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান দেখে দ্বিতীয় তালিকাটি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। নমুনা সংগ্রহের তালিকায় ‘সিডিএ মার্কেট’ লেখা দেখে তিনি বিষয়টি রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে বিআইটিআইডি ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমদ বলেন, বিআইটিআইডি থেকে একটাই তালিকা পাঠনো হয়। দুটি পাঠানোর সুযোগ নেই। যে তালিকায় ২০১ নম্বরে পুরুষের নাম রয়েছে ওটা সঠিক।

উপজেলায় পাঠানো তালিকায় একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার স্ত্রীর নাম আসে। পরে নাম পরিবর্তিত হয়ে পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব সিভিল সার্জন অফিস ভালো বলতে পারবে। তবে বিআইটিআইডিতে যে পরীক্ষা করে আমরা রিপোর্ট তৈরি করে থাকি এর কোনো নিরাপত্তা  নেই। যে কেউ অনলাইন থেকে ডাউনলোড করতে পারে।’  

বিআইটিআইডির মাইক্রোবাইয়োলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাকিল আহমদ জানান,  প্রতিদিন শত শত রোগীর করোনা পজিটিভ বা নেগেটিভ নামের তালিকা বিআইটিআইডির অনলাইনে সংযুক্ত থাকে। এই তালিকা যে কেউ ডাউনলোড করে নিতে পারে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিজস্ব লোকবল স্বল্পতার কারণে বাহির থেকে লোক নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এই ল্যাবের রিপোর্টের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজ। এটা করা জরুরি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা