kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

পথের কাঁটা পথ

দুর্গাপুরে গতি নেই সংস্কারকাজে

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পথের কাঁটা পথ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বাছের মোড়ে সড়কে উল্টে গেছে মালবোঝাই গাড়ি। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার প্রধান সড়ক পথচারীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছে, সড়কটি সংস্কারকাজে গতি না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের গতি না বাড়লে আগামী দুই বছরেও শেষ হবে না সংস্কার। সেই সঙ্গে কাজের গতি ও মান নিয়ে স্থানীয় লোকজন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, সংস্কারকাজে সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না প্রয়োজনীয় ইট, পাথর, বালু, বিটুমিনসহ অন্য উপকরণ। অথচ সড়কটির কাজের মেয়াদকাল শেষ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহেরপুর থেকে দুর্গাপুর হয়ে উপজেলার পালিবাজার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও সরু ছিল। এতটাই সরু ছিল যে দুটি বাস কিংবা বড় যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করতে পারত না। ফলে প্রায়ই ঘটত দুর্ঘটনা। যার কারণে দীর্ঘদিন পর সড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর ওই সড়কটি সংস্কারের দরপত্র ডাকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শুরু করে ডন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আগে দরপত্রের মাধ্যমে সড়ক প্রশস্তের জন্য কেটে ফেলা হয় পাশে থাকা হাজার হাজার বিভিন্ন প্রকার গাছ।

বর্তমানে ১২ ফুট সড়কটি ১৮ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। পরিকল্পিতভাবে কাজ না হওয়ায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে প্রতিদিন পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। প্রায়ই সড়কের বড় বড় গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি। খানাখন্দ পাড়ি দিতে গিয়ে বিকল হচ্ছে যানবাহন। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের। সংস্কার কোথাও শেষ করা হয়েছে, আবার কোথাও চলছে কাজ। আবার অনেক স্থানে সংস্কারের কোনো ছোঁয়া পড়েনি।

আলীপুর গ্রামের ওমর ফারুক বলেন, যেখানে দুর্গাপুর বাজার থেকে রাজশাহী যেতে আগে সময় লাগত এক ঘণ্টা, সেখানে এখন সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। কাজ এত ঢিমে তালে চলছে যে শেষ কবে হবে—তা আল্লাহই ভালো জানেন।

পথচারী আকরাম আলী বলেন, রাস্তার কাজ এই হচ্ছে এই বন্ধ করছে। ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছামতো সড়কের এ প্রান্তে একটু ও প্রান্তে একটু করে কাজ করছে। যাতে দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ।

শিক্ষার্থী সজীব মাহমুদ রিয়াদ বলেন, জয়কৃষ্ণপুরের বাছের মোড়ে বোঝার উপায় নেই যে সেটি সড়ক না পুকুর। ফলে প্রায়ই অটোরিকশা, সিএনজিসহ ছোটখাটো যানবহন উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হন যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মালামাল।

কয়েকজন যানবাহন চালক জানান, রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে প্রায়ই গাড়ির চাকা দেবে টায়ার ফেটে যায়, গাড়ির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। এমনকি অনেক ছোটখাটো গাড়িগুলো উল্টে পড়ে যায়। গাড়ি বিকল হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকতে হয় রাস্তায়। যাত্রীরাও খুব বিরক্ত হয়। এ ছাড়া যাত্রীদের গুনতে হয় বাড়তি ভাড়া।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ইমদাদুল হক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে ঠিকমতো সড়কের কাজে ব্যবহৃত মালামাল পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে শ্রমিক সংকট। যার কারণে কাজের অনেকটাই গতি কমে গেছে। তবে যথাসময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা