kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

২০০ বছরের দিঘি ভরাট

বরিশাল অফিস   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশাল নগরীর ২০০ বছরের পুরনো সীতারাম দিঘিটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে জলাশয়টি ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে কশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী হোসেনের বিরুদ্ধে। ঐতিহ্যবাহী সীতারামের দিঘিটি ভরাটের বিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয়রা আপত্তি জানালেও থামেনি ভরাটের প্রক্রিয়া।

বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর বাজার ছাড়িয়ে হাতের ডান পাশে অবস্থিত সীতারামের দিঘি। আজ থেকে ২০০ বছর আগে চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশ ২ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর দিঘিটি খনন করে। পরে দিঘির পারেই ১ দশমিক ৩৯ একর জমির ওপর স্থাপিত হয় কাশীপুর ইউনিয়ন ভূমি আফিস। সরকারি কাগজপত্রে সীতারাম দিঘিটি এখানো জনসাধারণের ব্যবহার্যের কথা উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯৫০ সালে বরিশালের কাশীপুর, মাধপাশা ও মুলাদীসংলগ্ন স্থানে দাঙ্গা শুরু হলে এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক ধনাঢ্য মানুষ সহায়সম্পদ ফেলে ভারতে চলে যায়। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু লোকজন নামে-বেনামে এসব জমি দখলে নেয়। এরই অংশ হিসেবে জমির মূল মালিকদের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় হাতেম মীরা নামের এক ব্যক্তি নামমাত্র মূল্যে ওই এলাকার বেশ কিছু জমি কিনে নেন, যা তাঁর ছেলে সৈয়দ কাওসার হোসেনের নামে রেকর্ড করানো হয়। পরবর্তী সময়ে সৈয়দ কাওসার হোসেন কাশীপুর ইউনিয়নের আলী হোসেন হাওলাদারের কাছে জমি বিক্রি করেন। কয়েক দিন ধরে আলী হোসেন হাওলাদার ঐতিহ্যবাহী দিঘিটি বালু ফেলে ভরাট করছেন। 

কাশীপুর ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি মৌজার ৪১৫ ও ৪১৬ নম্বর খতিয়ানের ৮৪২ নম্বর দাগে দিঘিটি অবস্থিত; সিএস ও এসএ রেকর্ডে যা সীতারামের দিঘি নামে উল্লেখ আছে। এ দিঘি পানীয় জলের জন্য জনসাধারণের ব্যবহার্য। একই মালিকানার প্রায় তিন একর সম্পত্তির ওপর থাকা কাশীপুর ভূমি অফিস বর্তমানে সরকারের খাস সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসএ খতিয়ানে দিঘির মালিক হিসেবে জয়ন্তলাল বসু, রাজকুমার বসু, গুণদাসুন্দরী বসু, বসন্ত কুমার বসুর নাম রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সীতারাম দিঘির একাংশ বালু ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। চিহ্ন লোপাটের জন্য বালুর ওপর ইটের গুঁড়া দিয়ে বালু ঢেকে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ কবির বলেন, ‘বিষয়টি সিটি মেয়র মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তিনি এসে দেখেও গেছেন। আমরাও চাই এখানে দিঘি থাকুক।’

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা দিঘি ভরাট করছি না। দিঘির পার ভেঙে যাওয়ায় তা ঠিক করছি।’

বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘জনসাধারণের জন্য ব্যবহার্য এ দিঘি কোনোভাবেই ভরাট করতে দেওয়া হবে না। এ পর্যন্ত যতটুকু ভরাট করা হয়েছে তা তুলে ফেলার জন্য আলী চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি।’

মন্তব্য