kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

গরিবের চাল গায়েব

ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক) ও ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের ঝিকরগাছায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রের প্রাপ্য চাল চার বছর ধরে ডিলার আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নে নির্ধারিত পাঁচ ডিলারের মধ্যে নাসির উদ্দিনের মোবাইলে কথোপকথনের এক ভয়েস রেকর্ডের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। নাসির উদ্দিন নাভারণ ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের নেদু সরদারের ছেলে ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডিলার নাসির উদ্দিনের আওতায় ৫৬৩ জন উপকারভোগীর মধ্যে অনেকের নাম-ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেকেই রয়েছেন প্রবাসে। তালিকায় মৃতদের নামও রয়েছে একাধিক। বেওয়ারিশ ও অস্তিত্বহীন এসব কার্ডের ওপর অন্যের ছবি লাগিয়ে টানা চার বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের ‘ম্যানেজ’ করে চাল আত্মসাৎ করছেন এই ডিলার। 

ঝিকরগাছা উপজেলা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তালিকায় দেখা যায়, ৫৬৩ জনের তালিকায় সবার মোবাইল নম্বর থাকার কথা থাকলেও অর্ধেকের বেশি উপকারভোগীর নামের পাশে তা নেই। তালিকায় একই ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর অনেকের নামের পাশে পাওয়া গেছে। ৪১১২৩৫৯৯ এই অসম্পূর্ণ আইডি কার্ডের নম্বর রয়েছে ৪২ জনের নামের পাশে। আবার ৪১১২৩৫৯৯০ এই একই ভোটার নম্বর দেখানো হয়েছে ৯৩ জন উপকারভোগীর নামে।

কথা হয় আমিনী গ্রামের ১৬৪৫ নম্বর কার্ডধারী বজলুর রহমান, ১৫৫২ নম্বর কার্ডের দুলাল দাস ও ১৫৩২ নম্বর কার্ডের আব্দুল জব্বারের ছেলে সাইদুর রহমানের সঙ্গে। তাঁরা জানান, বর্তমানে তাঁরা কেউ চাল পান না।

এ বিষয়ে ডিলার নাসির উদ্দিন জানান, চাল বিতরণে তাঁর ডিলার পয়েন্টে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি নেই। ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী মজুমদার জানান, কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার ডিলারশিপ স্থগিত করা হবে।

এদিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শেফালি, রেনু আক্তার, মাকসুদা মুর্শিদা, রেজিয়া, রুমা, রেখা আক্তারসহ ১৫ অসহায় নারীর নামে প্রায় দেড় বছর আগে ভিজিডি কার্ড করা হয়েছে। কিন্তু এত দিন তারা তা জানেননি। কে বা কারা এসব অসহায় নারীর বরাদ্দ তুলে খাচ্ছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য ছাড়া আর কেউ জানেন না। অপর দিকে গত এপ্রিল-মে মাসের বরাদ্দের চাল ৩২৮ কার্ডধারীর মধ্যে বিতরণ না করে গায়েব করেছেন চেয়ারম্যান।

উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের ওই ১৫ নারী জানান, তাঁদের ভিজিডি তালিকাভুক্ত করতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার তাঁদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নেন। এরপর আর কিছুই জানেন না তাঁরা। এ পর্যন্ত তাঁরা কোনো চাল কিংবা সহায়তাও পাননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘তারা যে চাল পায় না তা আমার জানা নেই।’ উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর তালুকদার বলেন, ‘যথাসময়েই চেয়ারম্যান বরাদ্দের চাল উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

মন্তব্য