kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

করোনায়ও কিস্তির চাপ

নাটোরে সরকারি নির্দেশ অমান্য এনজিওর

নাটোর প্রতিনিধি   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায়ও কিস্তির চাপ

নাটোরে বিভিন্ন সংস্থা (এনজিও) তাদের কিস্তির টাকা আদায় করছে। সংস্থার কর্মকর্তারা ফোন দিয়ে চাপ সৃষ্টি করাসহ কর্মচারী পাঠিয়ে আদায় করছেন টাকা। এ কাজে বড় বড় সংস্থাসহ নাটোরের ক্ষুদ্র সংস্থাগুলোও রয়েছে। তবে সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা কোথাও চাপ সৃষ্টি করছেন না। তবে কেউ ইচ্ছাকৃত কিস্তির টাকা দিলে তা নিচ্ছেন।

জানা যায়, নাটোরের আশা, ব্র্যাক, প্রশিকা, টিএমএসএস, আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, লাস্টার, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, কৈননিয়া, আলো, উত্তরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, গ্রামীণ ব্যাংক, আরআরএফসহ বিভিন্ন সংস্থা কিস্তির টাকা আদায় করছে। তবে কৌশলগতভাবে ভিন্নতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পূর্বে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে টাকা নিলেও এখন ফোন করে অথবা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আদায় করছে টাকা।

হরিশপুর এলাকার সালেহা বেগম জানান, তিনি আশা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিস্তির টাকা দিতে চাননি বলে তাঁর সঞ্চয় থেকে পাওনা টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তেবাড়িয়ার রাবেয়া বেগম জানান, তিনি উত্তরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। মাঠকর্মীরা বলে গেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে তাঁকে টাকা দিতে হবে। স্টেশন বড়গাছা এলাকার শবনম জানান, তিনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। সেখানকার কর্মকর্তারা হুমকি দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা না দিলে ব্যবস্থা নেবেন।

অন্যদিকে কান্দিভিটা মহল্লার ফেন্সি ও বেবী জানান, তাঁরা এসএসএস সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছেন। এখন কিস্তির টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। ছাতনী মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, তিনি টিএমএসএস থেকে ঋণ নিয়েছেন। এ সপ্তাহে কিস্তি দিতে বাধ্য করেছে তারা।

নাটোর পৌর শহরের রিকশাচালক তেবাড়িয়া গ্রামের বৃদ্ধ মজিদ মিয়া বলেন, তাঁর পরিবারে আটজন সদস্য। এই ক্রান্তিলগ্নেও তাঁকে প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ৪০০ টাকা করে এনজিওর কিস্তি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আয় নাই। তাই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত এনজিওর কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করব, তা বুঝতে পারছি না।’

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়মিত কিস্তি নিচ্ছে সংস্থাগুলো। তবে সংস্থার প্রতিনিধিরাও স্বীকার করেন, সরকার জুন মাস পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ ঘোষণা করেছে। তাঁদের দাবি, তাঁরা আপাতত কাউকে কিস্তির জন্য কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন না। অফিস খোলা থাকায় কেউ কিস্তি দিতে এলে তা গ্রহণ করছেন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, সরকার জুন পর্যন্ত সংস্থার কিস্তি তুলে নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এর পরও যদি কেউ কিস্তির টাকা তোলে, অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য