kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

চুরির অভিযোগে শিশুকে বেঁধে পিটুনি

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চুরির মিথ্যা অভিযোগে এক শিশুকে (১৬) বেঁধে পিটিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও তাঁর বাহিনী। ঘটনার ১৯ দিন পর নির্যাতনের একটি ছবি গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে আশ্রয় গ্রামের বাসিন্দা হোটেল ব্যবসায়ী কাইয়ুম মিয়ার বাইসাইকেল হারিয়ে যায়। ১৪ মে বাইসাইকেলটি ছৈদলবাজারে শাহ আলমের কাছে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রাতে টিলাগাঁও ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বাদশা মিয়া ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মখলিছুর রহমান, মালিক কাইয়ুম, গ্রাম পুলিশ শাহাব উদ্দিন ও ফরিদ গিয়ে সাইকেল উদ্ধার করেন। সেখানে আটকে রাখা শিশুকে হাত বেঁধে আশ্রয় গ্রামে নিয়ে আসেন। তাকে একটি দোকানে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেন।

এদিকে রাতে শিশুটির বাবা ও চাচা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। সকালে খবর পান তাকে আশ্রয় গ্রামে বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। ছেলেটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ইউপি সদস্য বাদশা মিয়াকে অনুরোধ করেন। তখন বাদশা মিয়া জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক নির্দেশ দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে। আব্দুল মালিকের বাড়িতে গেলে পরবর্তীতে সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দেবেন বলে তছবির আলীর জিম্মায় শিশুটিকে ছেড়ে দেন। ৩ জুন সালিসের কথা ছিল। কিন্তু ২ জুন একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে চেয়ারম্যান সালিস স্থগিত করেন।

গত বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গেলে শিশুটি জানায়, আশ্রয় গ্রামের বাসিন্দা মৃত হুরমত আলীর ছেলে মো. শামীম ওরফে কুদরত তাঁর পরিচিত। কাইয়ুমের সঙ্গে কুদরতের টাকা-পয়সার লেনদেন ও নারীঘটিত বিরোধ রয়েছে। এর জেরে গত ২ মে কাইয়ুমের বাইসাইকেল ছৈদলবাজারে শাহ আলমের কাছে নিতে বলে কুদরত। সে সাইকেলটি শাহ আলমের কাছে পৌঁছে দেয়। এরপর সাইকেলটি চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ এনে অন্যায়ভাবে তাকে বেঁধে মারধর করা হয়। এখনো তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শামীম ওরফে কুদরত বলেন, ‘আসলে সাইকেল চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিশুটিকে কেন মারধর করা হলো সেটা আমি জানি না।’

ব্যবসায়ী কাইয়ুম বলেন, ‘শিশুটিকে কী করেছেন মেম্বার, সেটা মেম্বারই ভালো বলতে পারবেন।’

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া জানান, ‘ছেলেটি যাতে পালিয়ে না যায় সে জন্য তাকে হাত বেঁধে রাখা হয়। তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

টিলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক বলেন, ‘আমি প্রশাসনকে ঘটনা তদন্ত করে দেখার জন্য বলেছি।’

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘মারধরের ঘটনা সত্যি হলে এটা খুবই অমানবিক। শিশুটির পরিবার চাইলে তাদের সব ধরনের আইনি সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা