kalerkantho

শনিবার। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৫ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

সেই বাঁধ গলা চিপছে পদ্মার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই বাঁধ গলা চিপছে পদ্মার

রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারীতে পদ্মার বুক থেকে বালু তুলতে ইজারাদার নদী ভরাট করে রাস্তা তৈরি করে রেখেছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পদ্মায় পানি বাড়ছে। রাজশাহী নগরীর নিচে গড়ে ওঠা পদ্মার চরগুলো ধীরে ধীরে ডুবছে। কিন্তু নগরীর তালাইমারী এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য আওয়ামী লীগ নেতার দেওয়া সেই বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে।

তালাইমারীর এমন দৃশ্য দেখে রাজশাহীর নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু লিজ ছাড়া পদ্মা থেকে বালু উত্তোলন এখনো বন্ধ হয়নি আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল আলম বেন্টুর প্রভাবের কারণে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তালাইমারী এলাকায় গড়ে তোলা রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুর এই বালুমহালটি জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে গত বছর লিজ দেওয়া হয়নি। এমনকি এ বছরও লিজ দেওয়া হয়নি। শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় এবার নগরী ও এর আশপাশের চারটি ঘাটের একটিও লিজ দেয়নি জেলা প্রশাসন। তার পরও গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ঘাট জোর করে দখলে রেখেছেন বেন্টু। বর্ষার পরে নদীতে পানি শুকিয়ে গেলে গত নভেম্বরে পদ্মা থেকে বালু উত্তোলনের জন্য নদীর মাঝে ইট ও বালু ফেলে বাঁধ নির্মাণ করেন তিনি। সেই বাঁধ নির্মাণের পর কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ হলে সেটি জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত গিয়ে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এরপর তিন দিন ধরে ওই বাঁধ সরিয়ে নেওয়া হয় ড্রেজার মেশিন দিয়ে। কিন্তু কয়েক দিন পরে আবারও সেই বাঁধ নির্মাণ করে সমানে এখন পর্যন্ত বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন বেন্টুর লোকজন।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, এই বাঁধের কারণে দুই পারে পানি আটকে আছে। প্রবাহিত হতে পারছে না। এতে করে পদ্মায় পলি পড়ে আরো বড় ধরনের চর পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু বাঁধের ওপর দিয়ে ট্রাকে এখনো প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে রাতের আঁধারে এখন বেশি বালু উত্তোলন হচ্ছে।

জানতে চাইলে একজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লিজ নাই। কিন্তু বালু উত্তোলন হচ্ছে এখনো নদী থেকে। বাঁধের কারণে পানি আটকে আছে। আমরা কাজ করছি টাকা নিচ্ছি। এখানে আমাদের কিছু করার নাই। বেন্টু ভাইয়ের লোকজন ভালো বলতে পারবেন।’

জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘নদী বাঁচাতে এবার কোনো বালুমহাল লিজ দেওয়া হয়নি। তার পরও রাতের আঁধারে কেউ কেউ বালু উত্তোলন করছেন। এটি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা এ নিয়ে আজ-কালের মধ্যেই কঠোর অবস্থানে যাব।’

উল্লেখ্য, রাজশাহীর চারটি মহালে লিজ ছাড়া বালু উত্তোলন চলছে। এ নিয়ে গত ২৩ মে কালের কণ্ঠে ‘কোটি টাকার বালু লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সব কয়টি মহাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেই নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা