kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

উচ্চ ঝুঁকিতে উপজেলা তবু নেই সতর্কতা

সীতাকুণ্ডে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০৬ মারা গেছেন তিনজন

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলাকে করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (রেড জোন) এলাকা বলে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা দেখা যায়নি। প্রশাসনের তৎপরতাও কাজে আসছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার উপজেলা সীতাকুণ্ডে শুরু থেকেই করোনা সংক্রমণের হার অনেক বেশি। চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এখানে অনেক বেশি মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করে উপজেলা প্রশাসন। এ কারণে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর পরও এখানে তেমন জনসচেতনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। প্রতিদিনই এখানে হাটবাজারে অসংখ্য মানুষের দেখা মিলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার ছাড়াও তারা জামাকাপড় ও সাজসজ্জার সরঞ্জাম কিনছে অহরহ। তা ছাড়া এই মুহৃর্তে সবচেয়ে জরুরি যে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা কিংবা মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস ব্যবহার করছে না অনেকেই। ফলে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুর উদ্দিন রাশেদ জানান, গতকাল সোমবার পর্যন্ত এখানে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১০৬ জন। এ ছাড়া মারা গেছেন তিনজন। প্রথম মৃত্যু ঘটে সৈয়দপুর ইউনিয়নে। সেখানে এক যুবক মারা যান। অন্য দুজন সলিমপুর ইউনিয়নের। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুরে আলী আকবর (৪৫) মারা গেছেন। এর আগে সলিমপুরে এক বৃদ্ধা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডা. রাশেদ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হতে অনুরোধ করে আসছি। জরুরি প্রয়োজনে কেউ বাইরে গেলেও তিনি যেন অবশ্যই মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করেন, সে কথাও বলেছি বারবার। আর সামাজিক দূরত্বের কথা তো প্রতিমুহৃর্তেই বলছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা? বাজারগুলোতে গেলে মনে হয় আমরা যেন করোনা জয় করে ফেলেছি! মানুষ নিজেকে রক্ষার গুরুত্বও যদি না বোঝে, তাহলে তাদেরকে আর কিভাবে বোঝানো যাবে?’ তিনি আরো জানান, এখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও বেশির ভাগ রোগীর শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ নেই। ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় পরে তারা সুস্থ হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে ১০৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ৫০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, ‘এখানে করোনা দ্রুত ছড়াচ্ছে। এ জন্য এটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আশানুরূপ সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। মানুষ একেবারে স্বাভাবিক সময়ের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা অভিযান চালালে তখন তারা চলে যায়, আবার আমরা ফিরে আসার পর শুনি আগের মতো অবস্থা। নিজে যদি নিজের ভালো না বোঝে তাহলে তাদেরকে কী করে বোঝানো যাবে?’ করোনাকে অবহেলা না করে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারসহ নিয়ম-কানুন মেনে চলার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা