kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

এক ইউনিয়নে ১৯ ইটভাটা

পার্বতীপুরে ৬ ভাটার ধোঁয়ায় ফল-ফসল নষ্ট

আবদুল কাদির, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক ইউনিয়নে ১৯ ইটভাটা

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কয়েকটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। (ইনসেটে) ইট প্রস্তুতরত একটি ভাটা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে ১৯টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ওয়ার্ডে ছয়টি অবৈধ ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ফল ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাটার কালো ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে বসতবাড়ির ঘরের চালার টিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ পলাশবাড়ীর (ধুলাউদাল) তরিফুল, রেজাউল, শাহিনুর, আ. মজিদ, মোস্তফা জামান, হাসিনুরসহ ক্ষতিগ্রস্তরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে।

এতে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ পলাশবাড়ী ও হামিদপুর মৌজার সাতটি ভাটার মধ্যে ছয়টিতে দেদার কার্যক্রম চালাচ্ছেন মালিকরা। আরেকটি বন্ধ রেখেছেন মালিক। চালু ভাটাগুলো হচ্ছে সোহাগী ব্রিক্স, আরএম ব্রিক্স, সিয়া ব্রিক্স, একতা ব্রিক্স, এআর ব্রিক্স ও একে ব্রিক্স। এসব ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গ্যাসের কারণে এলাকার পরিবেশ দূষণ ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। চাষিরা ফসল পুড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে এভাবে ভাটার কার্যক্রম চলতে থাকলে আগামী দিনে জমিতে আম-লিচু বাগান ও ধান চাষ করা যাবে না।

১৫ একর জমিতে আমের বাগান করেছেন আমিনুল ইসলাম বাচ্চু (৫২)। তাঁর অভিযোগ, বাগানের পাশে ভাটার ধোঁয়ায় দুই হাজার গাছের মধ্যে আম ধরেছে এক হাজার ২০০ গাছে। নিচের অংশে পচন ধরার পাশাপাশি ঝরে পড়ছে এসব আম। সেই সঙ্গে পরিপক্কের সময় পেরিয়ে গেলেও আমের পূর্ণতা না আসায় আকারে ছোট রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগে এ বাগান আট লাখ টাকায় বেচা হলেও এবারে বাগানে এসে আমের অবস্থা দেখে ফেরত যাচ্ছেন পাইকাররা।

তিন একর জমিতে আম বাগান করা মোস্তফা জামান (৫০), ৪০০ গাছ লাগানো লিয়াকত আলী (৬৫), দেড় একর জমিতে আম লাগানো কামরুজ্জামান, দুই একর জমিতে আম, লিচু ও বাঁশ লাগানো আব্দুর রহমানের অভিযোগ, তাঁদের গাছের ফল পুড়ে গেছে। তাঁরা আরো বলেন, এ এলাকার সব ভাটা এক কিলোমিটারের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলায় ৫০টি ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটির বৈধ কাগজপত্র আছে। বাকিগুলো অবৈধ।

এআর ব্রিক্সের মালিক রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘আমার ভাটা থেকে ৮০০ মিটার দূরত্বে ফসলি জমি। আশা করছি, ছাড়পত্র পাব।’

একে ব্রিক্সের মালিক কালাম বলেন, ‘যাঁরা আমাকে ভাটার জন্য জমি দিয়েছেন, এখন তাঁরাই আবার অভিযোগ করছেন।’

গণস্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রাকিবুল হক টুটুল, জিল্লুর রহমান সরকার, আমিনুল হক বাচ্চু, শাহাদত হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগে কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হতো। এখন কয়লার গুঁড়া, এর সঙ্গে বোতাম, প্লাস্টিক ও রাবারকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে বিষাক্ত গ্যাস, কালো ধোঁয়ায় গাছপালাসহ ফসলের ক্ষতি হয়। মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা অসুখ হচ্ছে।

পরিবেশ ও বন বিভাগের সহকারী পরিচালক মিহির লাল সরদার জানান, উন্নতমানের কয়লা ব্যবহার করে ভাটা পরিচালনার নিয়ম আছে। এর ব্যত্যয় হলে ছাড়পত্র পাওয়ার কথা নয়। কয়লার গুঁড়া ও অন্যান্য উপাদান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পার্বতীপুর কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান বলেন, ‘উল্লিখিত ছয় ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। ইউএনও আমাকে তদন্তভার দেওয়ার পর গত রবিবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

ইউএনও মোছা. শাহনাজ মিথুন মুন্নী বলেন, ‘তদন্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা