kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় শুরু!

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংকটে সরকারের নির্দেশে বন্ধ থাকা ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এনজিওর বিরুদ্ধে। আরো অভিযোগ, কর্মী পাঠিয়ে ও ফোনের মাধ্যমে কিস্তি দেওয়ার জন্য ঋণগ্রহীতাদের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো এনজিও ঋণ আদায়ও করছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্বভাবিক না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঋণগ্রহীতারা।

জানা যায়, মাইক্রোক্রেডিট অথরিটির অনুমোদন নিয়ে এ জেলায় প্রায় ১৫টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদের ঋণগ্রহীতা প্রায় পৌনে তিন লাখ। এ ছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সমবায় সমিতির অনুমোদনে আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে থাকে। এদের ঋণগ্রহীতার সংখ্যাও প্রায়  দুই লাখ। এরা মূলত রিকশা-ভ্যানচালক, চায়ের দোকানদার, সবজি বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা, দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের লোকজন। প্রতিদিনের আয় থেকে কিছুটা বাঁচিয়ে সপ্তাহের কিস্তি পরিশোধ করেন।

করোনা সংকট শুরু হলে অঘোষিত লকডাউনে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চ মাসের শেষের দিকে মাইক্রোক্রেডিট অথরিটি ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশ দেয়। নির্দেশে বলা হয়, কেউ নিজ ইচ্ছায় কিস্তি দিলে আদায় করা হবে। চাপ দেওয়া যাবে না। কিস্তি না দিলে কেউ খেলাপি হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঋণ সমন্বয় করা হবে।

বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা অভিযোগ করেন, এনজিওর মাঠ কর্মীরা বাড়িতে এসে তাদের কিস্তি দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। অফিস থেকেও বড় বড় কর্মকর্তা ফোন করছেন। তাঁরা জানান, গত দুই মাস আয়-রোজগারের কোনো পথ ছিল না। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের ওপর বেঁচে আছেন। এ অবস্থায় তাঁদের কোনোভাবেই কিস্তি দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা উল্টো প্রশ্ন করেন, পরিস্থিতি কি স্বাভাবিক হয়েছে যে কিস্তির জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে?  কিস্তির তাগাদার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

বেশ কয়েকটি এনজিওর মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মীরা বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি কিস্তি পরিশোধ করার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। কিন্তু কিস্তি আদায় করতে না পারলে আমাদের বেতন আটকে থাকে। এমনকি চাকরিও চলে যায়। তাই কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হই।’

জেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সভাপতি সুমন আহম্মেদ বলেন, ‘কিস্তি আদায়ে কোনো চাপ দেওয়া যাবে না। কেউ ইচ্ছা করে দিলে নেওয়া যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী জুলাই থেকে কিস্তি আদায় শুরু হবে। এনজিওগুলো মূলত এখন নতুন ঋণ প্রদান এবং সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার জন্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা